Advertisement
Us Bangla Airlines
ইতিহাস গড়ে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

ইতিহাস গড়ে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক

১১ জুন ২০২৬, ২০:৪৪

৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো মিরপুরে। ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। বৃষ্টি-বিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের পর ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এসেছে বাংলাদেশের এই স্মরণীয় সাফল্য।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে সেই সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষে যায়নি। বৃষ্টি নামার আগে ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে সফরকারীরা। পরে দীর্ঘ বিরতির কারণে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচ ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয় এবং বাংলাদেশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ১৯২ রান। সেই লক্ষ্য ৩৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় স্বাগতিকরা।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরু হয় দুঃস্বপ্নের মতো। কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই তিন উইকেট হারায় তারা। ওয়ানডে ইতিহাসে ১০২৪ ম্যাচ খেলার পর এই প্রথম শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর রেকর্ড গড়ে সফরকারীরা।

শুরুর ধাক্কা দেন তাসকিন আহমেদ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাথু শর্টকে আউট করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ওভারে কুপার কনোলি ও ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া।

১৮তম ওভারে জশ ইংলিসকে আউট করেন তানভীর ইসলাম। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে সফরকারীরা। সেখান থেকে জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। তবে ৪১তম ওভারে তাসকিনের জোড়া আঘাতে আবারও চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানেই থামে তাদের ইনিংস।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান নেন তিনটি করে উইকেট। দুটি উইকেট শিকার করেন তানভীর ইসলাম।

১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। গুড লেন্থের বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইনিংস গড়েন সৌম্য সরকার। দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন তারা।

সৌম্য ৪২ রান করে আউট হওয়ার পর ৯৮ রানে শান্তও ফিরে যান একই রানে। তবে আউট হওয়ার আগে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে এটি ছিল তার ৪২তম ইনিংসে অর্জিত কীর্তি, যা দেশের ক্রিকেটে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম।

এরপর লিটন দাস শুরুটা ভালো করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২১ রান করে ক্যামরুন গ্রিনের বলে উইকেটরক্ষক জশ ইংলিসের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ছয়ে নামা মোসাদ্দেক হোসেন কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও ১৪৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তখন ম্যাচে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল স্বাগতিকদের ওপর।

তবে সেই চাপ আর বাড়তে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়। দুজনই পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করেন। ঝুঁকি কমিয়ে সিঙ্গেল-ডাবলে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি খারাপ বলগুলো কাজে লাগান তারা। শেষ পর্যন্ত হৃদয় ৪০ ও মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন।

৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ইতিহাসও গড়ে টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি করে উইকেট নেন ক্যামরুন গ্রিন, ম্যাট রেনশ, অ্যাডাম জাম্পা, জেভিয়ার বার্টলেট ও রাইলি মেরেডিথ।