অধিনায়ক লিটন নিয়ে যেখানে ভয়
খেলা ডেস্ক
২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪:৩৯
মেহেদী মিরাজের ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত এখন প্রায় নিশ্চিত। আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই শুধু বাকি। তার উত্তরসূরি হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিলেন শান্ত। তবে বিসিবির সঙ্গে আগের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনার পর হয়তো এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাননি তিনি। ফলে সাদা বলের ক্রিকেটে লিটন দাসের ওপরই ভরসা রাখতে যাচ্ছে বিসিবি।
সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই শুরু হবে তার ওয়ানডে অধিনায়কত্বের যাত্রা। লিটনের ক্রিকেটীয় মেধা, মাঠের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কিংবা নেতৃত্বগুণ নিয়ে খুব একটা প্রশ্ন নেই। বরং উদ্বেগের জায়গা অন্যত্র। সবচেয়ে বড় চিন্তার নাম ইনজুরি।
গত বছর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে লিটনকে। সব সংস্করণে নিয়মিত খেলতে পারেননি। ওয়ানডেতেও খেলেছেন হাতে গোনা কয়েকটি ম্যাচ। চলতি বছরও একই চিত্র। এমন একজন ক্রিকেটারের কাঁধে দুই সংস্করণের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
আধুনিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিতে প্রায় সারা বছরই মাঠে থাকতে হয় বাংলাদেশকে। এর সঙ্গে যোগ হয় উইকেটকিপারের বাড়তি শারীরিক পরিশ্রম। তিন সংস্করণেই গ্লাভস হাতে দাঁড়াতে হয় লিটনকে। নিয়মিত ডাইভ, লম্বা সময় কিপিং এবং ব্যাটিংয়ের চাপের সঙ্গে যদি দুই সংস্করণের অধিনায়কত্বও যোগ হয়, তাহলে শারীরিক ক্লান্তি তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতেই পারে।
শুধু শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও রয়েছে প্রশ্ন। লিটন বরাবরই প্রতিভাবান ব্যাটার। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তার ক্যারিয়ারে দেখা গেছে ধারাবাহিকতার অভাব। ব্যাট হাতে খারাপ সময় শুরু হলে মানসিক চাপ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারেন না তিনি। সেই জায়গায় নেতৃত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব তার ব্যাটিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা।
তবে ইতিবাচক দিকও কম নয়। অধিনায়ক হিসেবে লিটনকে অনেকেই ব্যাটারের চেয়ে বেশি পরিণত মনে করেন। ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝা, বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং সাজানো কিংবা ড্রেসিংরুমে স্থিরতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার দক্ষতার প্রশংসা রয়েছে দলের ভেতরেই। মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্যও তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
এমআই