Advertisement
Us Bangla Airlines
লেগ স্পিনারদের প্রতি অনীহা কাটবে কবে

লেগ স্পিনারদের প্রতি অনীহা কাটবে কবে

খেলা ডেস্ক

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০২

বাংলাদেশ ক্রিকেটে লেগস্পিনারের সংকট পুরোনো। বছরের পর বছর এই ঘাটতি নিয়ে আক্ষেপ করেছেন বিসিবির কর্তারা। কিন্তু সেই আক্ষেপের সঙ্গে বাস্তবতার মিল কতটা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ পাইপলাইনে থাকা লেগস্পিনারদের নিয়মিত সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেই যেন অনীহা দেখা যাচ্ছে। স্বাধীন ইসলামই হতে পারেন এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

লম্বা-চওড়া গড়নের কারণে উচ্চতা থেকে বাড়তি বাউন্স আদায় করতে পারেন এই লেগস্পিনার। স্পিনারদের জন্য বাড়তি বাউন্স যে কতটা কার্যকর, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে স্বাধীনকে আলাদা করে চেনায় শুধু তাঁর উচ্চতা নয়। লেগস্পিনের সঙ্গে একাধিক বৈচিত্র্যও রয়েছে তাঁর বোলিংয়ে।

বলেকয়ে গুগলি করতে পারেন স্বাধীন। ফ্লাইট দিয়ে ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করার দক্ষতাও আছে। সঙ্গে রয়েছে স্লাইডার, টপস্পিন ও প্রথাগত লেগস্পিন। অর্থাৎ একজন লেগস্পিনারের অস্ত্রভান্ডারে যা যা থাকা দরকার, তার অনেকটাই রয়েছে এই তরুণের। তবু ম্যাচ খেলার সুযোগ কেন পাচ্ছেন না? সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

বাংলাদেশ ইমার্জিং ও এইচপি দলে ডাক পেয়েছেন স্বাধীন। কিন্তু নিয়মিত একাদশে জায়গা করে নেওয়া তাঁর জন্য কঠিন। গত বছর রাইজিং স্টার দলে থাকলেও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি। প্রতিভা দেখানোর মঞ্চই যদি না মেলে, তাহলে নিজেকে প্রমাণ করবেন কীভাবে?

বিসিবির নতুন উদ্যোগে এবার চলছে গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি। অনূর্ধ্ব-২৩ দলে জায়গা পেয়েছেন স্বাধীন। কিন্তু গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচেও একাদশে ছিলেন না তিনি। তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়েই অবশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন তাঁকে নিয়ে এত কথা।

১০ ওভার বল করে মাত্র ১৯ রান খরচায় তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে একাই ধস নামিয়েছেন এই লেগস্পিনার। সুযোগ পেয়েই এমন পারফরম্যান্স স্বাধীনদের নিয়ে নতুন করে ভাবার যথেষ্ট কারণ তৈরি করে।

বাংলাদেশে প্রকৃত লেগস্পিনারের সংখ্যা এমনিতেই হাতে গোনা। জাতীয় দলে রিশাদ হোসেন ছাড়া নিয়মিত আলোচনায় থাকার মতো নামও খুব বেশি নেই। অথচ রিশাদের পরের সারিতে থাকা স্বাধীন ইসলাম কিংবা দেবাশীষ রায়ের মতো ক্রিকেটারদের পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগই যদি না দেওয়া হয়, তাহলে পাইপলাইন সমৃদ্ধ হবে কীভাবে?

দেবাশীষের ব্যাটিং ও হিটিং দক্ষতাও নজর কেড়েছে। স্বাধীন বল হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন। কিন্তু টুকটাক সুযোগ দিয়ে কোনো ক্রিকেটারকে বিচার করা যায় না। বিশেষ করে লেগস্পিনারদের ক্ষেত্রে ম্যাচের পর ম্যাচ খেলিয়ে তবেই তাদের ভুল, সাফল্য ও সম্ভাবনার জায়গাগুলো বোঝা সম্ভব।

লেগস্পিনারের অভাব নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে আক্ষেপ বহুদিনের। একসময় রিশাদকেও নিয়মিত ম্যাচ খেলানোর সুযোগ দেওয়া হতো না। এখন রিশাদ জায়গা করে নিয়েছেন, কিন্তু তাঁর পরের প্রজন্মের লেগস্পিনারদের ক্ষেত্রে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রশ্নটা তাই থেকেই যায়, লেগস্পিনার না থাকার আক্ষেপ আর কতদিন?

যে ক্রিকেটারদের নিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাঁদেরই যদি একাদশে জায়গা না দেওয়া হয়, তাহলে নতুন লেগস্পিনার তৈরি হবে কীভাবে? স্বাধীনদের হাতে বল তুলে দিয়ে, ভুল করার সুযোগ দিয়ে, ম্যাচের পর ম্যাচ খেলিয়েই তো তৈরি করতে হবে পরবর্তী রিশাদকে।

এমআই