মাইক হাসির সঙ্গে মোহাম্মদ রুবেলের তুলনা
খেলা ডেস্ক
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:২৫
৩০ বছর বয়সে এসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজায় কড়া নাড়ছেন মোহাম্মদ রুবেল। বয়স যেখানে অনেকের জন্য থেমে যাওয়ার সংকেত, সেখানে রুবেলের জন্য সেটিই হয়ে উঠেছে নতুন শুরুর সম্ভাবনা। অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে বল হাতে আগুন ঝরিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে এই রহস্যময় স্পিনার।
রুবেলের আন্তর্জাতিক অভিষেকের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুবেলের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। উদাহরণ হিসেবে সামনে এনেছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি মাইক হাসিকে। কারণ বয়সের গণ্ডি পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলে খেলেছিলেন হাসি।
৯ দলের টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে ১০ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট নিয়েছেন রুবেল। আসরে তাঁর বোলিং ছিল ব্যাটারদের জন্য রীতিমতো ধাঁধা। একের পর এক ম্যাচে রহস্যময় স্পিনে উইকেট তুলে নিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তিনি। অথচ ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার এখনও পাননি জাতীয় দলের ডাক।
তবে রুবেলকে যে নির্বাচকদের নজর এড়াতে পারেননি, সেটি স্পষ্ট করেছেন বাশার। বরং বয়সকে তাঁর পথে বাধা হিসেবে দেখছেন না প্রধান নির্বাচক। ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাশার বলেন, ‘আমরা তাকে গত বছরের বিপিএল থেকে নজরে রেখেছি। যে নিয়মিত মিস্ট্রি বল করে আসছে। এমনকি সে ভালো একজন ফিল্ডারও।’
‘যদিও সে অতটা তরুণ নয়, কিন্তু মাইক হাসিও আন্তর্জাতিক অভিষেক করেছিলেন বেশ দেরিতে। পরবর্তীতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটারে পরিণত হন। রুবেলের ক্ষেত্রেও বয়স বাধা হবে না’—যোগ করেন সুমন।
মাইক হাসির আন্তর্জাতিক অভিষেকও এসেছিল অপেক্ষার পর। ২৮ বছর বয়সে ওয়ানডে অভিষেক, এরপর দুই বছর পর টেস্টে পা রাখেন তিনি। দেরিতে শুরু করেও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের জায়গা করে নেন ‘মিস্টার ক্রিকেট’ নামে পরিচিত হাসি।
টেস্টে ৭৯ ম্যাচে ৫১.৫২ গড়ে ৬২৩৫ রান করেছেন হাসি। আছে ১৯টি সেঞ্চুরি। তাঁর টেস্ট ব্যাটিং গড় পুরো ক্যারিয়ারেই ছিল ৫০-এর ওপরে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব মিলিয়ে তাঁর রান ১২,৩৯৮, সেঞ্চুরি ২২টি। ২০০৬ সালে ওয়ানডেতে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যানও হয়েছিলেন তিনি।
রুবেলের গল্প অবশ্য ব্যাট হাতে নয়, বল হাতে লেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের এক সপ্তাহ পর একই ভেন্যুতে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে আলো ছড়ান তিনি। জাতীয় দলের পাইপলাইনে থাকা এবং নতুন-অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে রুবেলের পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে তাঁর দাপটের কথা।
এক ম্যাচে ১৮ রানে ৪ উইকেট, পরেরটিতে ২৫ রানে ৩। এরপর ১৫ রানে ৪, ৩০ রানে ৩, ২১ রানে ৫ এবং সবশেষ ১৫ রানে ৩ উইকেট। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপের জন্য প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই অমীমাংসিত ধাঁধা হয়ে উঠেছিলেন এই স্পিনার।