ব্যাটিং ধস সামলে ৩১৭ রানে দিন পার বাংলাদেশের
খেলা ডেস্ক
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫২
শুরুটা ছিল দাপুটে, মাঝপথে হঠাৎ ছন্দপতন। একের পর এক উইকেট হারিয়ে যখন চাপে বাংলাদেশ, তখন হাল ধরলেন লিটন দাস ও মেহেদী মিরাজ। তাদের ব্যাটে ভর করে বিপর্যয় সামলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনটা শেষ করেছে বাংলাদেশ। দিনের খেলা শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩১৭ রান।
দিনের প্রথম সেশনটা নিজেদের করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ও সাদমানের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ১২৪ রান। ২৬ ওভারে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান তুলে মধ্যাহ্নবিরতিতে যায়। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে সেই দাপট আর ধরে রাখতে পারেনি শান্তর দল। ৯৪ রান তুলতেই হারায় ৩ উইকেট। একপর্যায়ে মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন তিন ব্যাটসম্যান।
টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক শান্ত। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হন তানজিদ। মাত্র ৪১ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। শেষ পর্যন্ত ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৭১ বলে ৮৩ রান করে থামেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ইসমাত আলমের বলে তার ক্যাচ নেন উইকেটকিপার ইকরাম আলীখিল।

অন্য প্রান্তে ধৈর্যের পরিচয় দেন সাদমান। ৯৪ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। তবে ইনিংসটাকে আরও বড় করতে পারেননি তিনি। মোহাম্মদ সালিম সাফির শর্ট বল সামলাতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দেন সাদমান। জিয়াউর রহমান দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরিয়ে দেন তাকে। ৭ চারসহ ১১১ বলে ৬৭ রান করেন এই ওপেনার। তাতেই ভাঙে বাংলাদেশের ১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে মুমিনুল হক ও শান্তর ব্যাটে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। দলীয় সংগ্রহ ২০০ পেরোতেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল। ৭০ বলে ৩৯ রান করে অর্ধশতকের কাছাকাছি গিয়েও থামতে হয় তাকে।
এরপর বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়ে। ইয়ামিনের দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে যান মুশফিকুর রহিম। ৭ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। কিছুক্ষণ পর কাইস আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক শান্ত। তার ব্যাট থেকে আসে ৪২ বলে ২৯ রান। মাত্র ৪ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।

সেই বিপর্যয় সামলানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তৃতীয় সেশনে শুরু থেকেই সতর্ক ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন দুজন। তাদের পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি বাংলাদেশকে আবার লড়াইয়ে ফেরায়। তবে ব্যক্তিগত ২৪ রানে মিরাজের বিদায়ে ভাঙে সেই জুটি। ইসমাত আলমের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন এই অলরাউন্ডার।
এরপর একাই দলের হাল ধরেন লিটন। আগের তিন ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হওয়া এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান এবার ব্যাট হাতে জবাব দেন অর্ধশতকে। ৭৯তম ওভারের পঞ্চম বলে ইয়ামিন আহমদজাইকে চার মেরে ৮৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তার অর্ধশতকে বাংলাদেশের সংগ্রহও পৌঁছে যায় তিনশতে।
তবে ফিফটির আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরের ওভারেই সালিম সাফিকে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। ৫০ রানের ইনিংস খেলে ফিরলেও রেকর্ডের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ অর্ধশতকের তালিকায় হাবিবুল বাশারকে ছুঁয়েছেন লিটন। দুজনেরই অর্ধশতক এখন ২৭টি।
দিনের শেষ ভাগে আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম। নাঈম ১১ এবং তাইজুল ৪ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেন। সবমিলিয়ে ৩১৭ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। লোয়ারঅর্ডার থেকে আগামীকাল আরও কিছু রান পাওয়াই এখন দলের প্রত্যাশা।