মিরপুরের স্পিন ফাঁদে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ
খেলা ডেস্ক
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০২
মিরপুরের উইকেটে যেন লুকিয়ে আছে স্পিনের রহস্য। টেস্টের প্রথম দিনেই বল ঘুরেছে প্রায় ১০ ডিগ্রি। তাওহীদ হৃদয়ের ছেড়ে দেওয়া একটি বল ৯.৬ ডিগ্রি টার্ন পেয়েছে, যা উইকেটের চরিত্র সম্পর্কে জানান দিচ্ছে। এমন উইকেটই এখন বাংলাদেশের আশার বড় জায়গা। তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের স্পিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঘায়েল করার স্বপ্ন দেখছে স্বাগতিকরা।
সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ব্যাটিং উইকেটে খেলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। তাতে স্পিনের বিপক্ষে দলের দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে মিরপুরের চেনা পরিবেশে ফিরতেই যেন বদলে গেছে হিসাব। প্রথম দিন থেকেই উইকেটে বাড়তি টার্ন। বলের এই ঘূর্ণি প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য যেমন অস্বস্তির কারণ হতে পারে, তেমনি বাংলাদেশের স্পিনারদের সামনে খুলে দিতে পারে উইকেট শিকারের সুযোগ।
প্রথম দিনের দ্বিতীয় সেশনে বাঁহাতি স্পিনার জেডন বিশপের একটি বল খেলতে প্রস্তুত ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। তার ব্যাটিংয়ের প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছিল, লং অন কিংবা মিড উইকেটের দিকে ঠেলে দিয়ে সহজে সিঙ্গেল নেবেন। কিন্তু অফ স্টাম্পে পিচ করার পর বলটি যেভাবে ঘুরেছে, তা হয়তো ভাবনায় ছিল না হৃদয়েরও। সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বলটি টার্ন পেয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি।
একই ওভারের তৃতীয় বলে বিশপ টার্ন পেয়েছেন ৭.৬ ডিগ্রি। রস্টন চেজও গড়ে ৪ ডিগ্রি টার্ন পাচ্ছেন। টেস্টের প্রথম দিনেই এমন টার্ন বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে সতর্কবার্তা ও আশার বার্তা। কারণ, উইকেট যত বেশি স্পিন সহায়ক হবে, ততই কার্যকর হয়ে উঠতে পারেন স্বাগতিক দলের অভিজ্ঞ স্পিনাররা। তাইজুল, মিরাজ ও নাঈমের সামনে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ম্যাচের আগে উইকেটের চরিত্র নিয়ে অবশ্য রহস্য জিইয়ে রেখেছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রতিপক্ষকে আগাম ধারণা দিতে চাননি তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোতে ব্যাটিংবান্ধব উইকেট দেখা গেলেও মিরপুরে এবার মিলেছে ভিন্ন চিত্র। প্রথম দিন থেকেই স্পিনারদের জন্য সহায়তা থাকায় পরিষ্কার, এই টেস্টে উইকেটের চরিত্র বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের আশার পালে হাওয়া দিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাম্প্রতিক স্পিন-সংগ্রামও। এই সিরিজে ক্যারিবীয় দলে নেই স্পিন ভালো খেলা ব্যাটার শাই হোপ। ফলে বাংলাদেশের স্পিনাররা ধারাবাহিকভাবে চাপ তৈরি করতে পারলে সফরকারীদের ব্যাটিংয়ে বিপর্যয় ঘটানোর সুযোগ পেতে পারেন।
শুধু স্পিন নয়, মেঘলা আবহাওয়াও বাংলাদেশের পেসারদের সহায়তা করতে পারে। হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামের মতো বোলাররা সুইং আদায় করতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে। অর্থাৎ স্পিনের পাশাপাশি পেস আক্রমণেও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার সুযোগ রয়েছে স্বাগতিকদের সামনে।
এমআই