২৬ ম্যাচে ২৩ পরাজয়, বিপিএলে অভিন্ন সুজন
খেলা ডেস্ক
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:১৭
বাংলাদেশ ক্রিকেটে খালেদ মাহমুদ সুজন এক চেনা নাম। জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতানো এই অলরাউন্ডার খেলোয়াড়ি অধ্যায় শেষ করেও ক্রিকেটের সঙ্গ ছাড়েননি। কোচ হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার সাফল্য রয়েছে। কিন্তু বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মঞ্চে এলেই যেন সুজন হয়ে পড়েন একেবারেই ‘অভিন্ন’। দল বদলায়, ফল বদলায় না।
বিপিএলে একাধিক দলের হেড কোচ হিসেবে কাজ করেছেন সুজন। ২০১৬ সালে একবার শিরোপার স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সাফল্যের পর থেকে আর কোনো ট্রফি ধরা দেয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার নামের পাশে যোগ হয়েছে টানা হারের বিব্রতকর সব গল্প।
২০২৪ বিপিএলে সুজনের কোচিংয়ে দুর্দান্ত ঢাকা শুরুটা করেছিল জয়ে। কিন্তু সেই আশার আলো দ্রুতই নিভে যায়। পরের ১১ ম্যাচে টানা পরাজয়ে ভেঙে পড়ে দলটি। বিপিএলের গত আসরে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে পরিস্থিতি বদলাতে পারেননি সুজন। সেবার প্রথম ৬ ম্যাচেই হারের মুখ দেখে ক্যাপিটালস।
এই দুই আসর মিলিয়ে একপর্যায়ে বিপিএলে টানা ১৭ ম্যাচ জয়হীন ছিলেন কোচ সুজন, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে কোনো কোচের জন্যই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। সেই হারের বৃত্ত ভাঙে গত আসরে, যখন ঢাকা তিনটি ম্যাচে জয় পায়। তবে সামগ্রিক ব্যর্থতার কারণে নতুন মৌসুমে আর সুজনের ওপর আস্থা রাখেনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
নতুন মৌসুমে সুজনের নতুন ঠিকানা নোয়াখালী এক্সপ্রেস। কিন্তু ঠিকানা বদলালেও বিপিএলে সুজনের গল্প একই রয়ে গেছে। তার কোচিংয়ে নোয়াখালী এখন পর্যন্ত খেলেছে তিন ম্যাচ, তিনটিতেই পরাজিত। ফলে দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছে কোচের কৌশল ও পরিকল্পনাও।
শেষ তিন বিপিএলে দুর্দান্ত ঢাকা, ঢাকা ক্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস—এই তিন দলের হয়ে সুজনের কোচিং পরিসংখ্যান বেশ নির্মম বাস্তবই তুলে ধরে। সর্বশেষ ২৬ ম্যাচে তার দলগুলোর জয় মাত্র ৩টি, বিপরীতে হার ২৩টি। বিপিএলের রঙিন মঞ্চে তাই দল বদলালেও সুজন যেন একই রকমই থেকে যাচ্ছেন।
এমআই