ছয় ম্যাচ পর ৯ রানে জিতল নোয়াখালী এক্সপ্রেস
খেলা ডেস্ক
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:০০
অবশেষে জয়ের মুখ দেখল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টানা পাঁচ ম্যাচ হারার হতাশা পেছনে ফেলে বিপিএলে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে এসে হেভিওয়েট রংপুর রাইডার্সকে ৯ রানে হারিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল দলটি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত ডেথ বোলিংয়ে এই জয় তুলে নেয় নোয়াখালী।
টসে জিতে রংপুর রাইডার্স নোয়াখালীকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। ওপেনিংয়ে শাহাদাত হোসেন দিপু ও সৌম্য সরকারের জুটিতে আসে ২৫ রান। ৮ বলে ১৪ রান করে দিপু বিদায় নিলে তিনে নেমে ব্যাটিংয়ের গতি বাড়ান হাবিবুর রহমান সোহান। পাওয়ারপ্লে জুড়ে দাপুটে ব্যাটিং করে ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান তোলে নোয়াখালী।
তবে পাওয়ারপ্লে শেষ হতেই থেমে যান সোহান। ১৬ বলে ৩০ রান করে ৬৮ রানে আউট হন তিনি। সৌম্য সরকার উইকেটে থাকলেও পুরোপুরি সাবলীল ছিলেন না। ২৭ বলে ৩১ রান করে দলীয় ৮৪ রানে ফেরেন তিনি।
মাঝের ওভারে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন জাকের আলী অনিক। আক্রমণাত্মক না হয়ে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করে ৩৭ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। কিন্তু শেষদিকে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় রানের গতি কমে যায় নোয়াখালীর। দেড়শ ছোঁয়ার স্বপ্নও ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে।
শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে ১৪৮ রানেই অলআউট হয় নোয়াখালী। ইনিংসের শেষ তিন বলে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, জহির খান ও বিলাল সামিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক করেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। রংপুরের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন মৃত্যুঞ্জয় ও মোস্তাফিজুর রহমান। খুশদিল শাহ নেন ২ উইকেট, আর সুফিয়ান মুকিম ও নাহিদ রানা নেন একটি করে।
১৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি রংপুরের। ওপেনার লিটন দাস ১৩ বলে ১৫ রান করে ফেরেন, ডেভিড মালান ১০ বলে ৭ রান করে আউট হন। ওপেনিং জুটি থেকে আসে মাত্র ২১ রান। পাওয়ারপ্লে শেষে দুই উইকেট হারিয়ে ৩৯ রানে থাকে রংপুর।
এরপর তাওহিদ হৃদয় ও ইফতিখার আহমেদ জুটি গড়ে ধীরে সুস্থে এগোতে থাকেন। ঝুঁকি না নিয়ে ম্যাচে থাকার চেষ্টা করেন দুজন। ইফতিখার ৩১ বলে ৩৭ রান করে দলীয় ৮৬ রানে আউট হন। পাঁচে নেমে সুবিধা করতে পারেননি গত তিন ম্যাচের নায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৮ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন তিনি।
হৃদয় এক প্রান্ত আগলে রাখলেও রিয়াদের বিদায়ের পরের ওভারেই থেমে যান তিনি। ২৮ বলে ২৯ রান করে ১০৭ রানে ফেরেন হৃদয়। শেষদিকে খুশদিল শাহ লড়াই চালিয়ে যান। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান করেন ৬ বলে ৪ রান। খুশদিলের সঙ্গে যোগ দেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।
শেষ ওভারে রংপুরের দরকার ছিল ১৫ রান, হাতে ছিল ৪ উইকেট। বোলিংয়ে আসেন হাসান মাহমুদ। প্রথম বলেই খুশদিলকে আউট করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। পরের বলে এক রান নেন সুফিয়ান মুকিম। তৃতীয় বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন মৃত্যুঞ্জয়। সমীকরণ নেমে আসে ৩ বলে ১৪ রানে।
চতুর্থ বলে মোস্তাফিজুর রহমান একটি চার মারলেও শেষ পর্যন্ত রংপুর থামে ১৩৯ রানে। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত ডেথ বোলিংয়ে ৯ রানের জয় নিশ্চিত হয় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া এই জয় দলটির জন্য শুধু দুই পয়েন্ট নয়, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় উপলক্ষও হয়ে থাকল।
এমআই