বিসিবের দোষেই কি চোটে পড়লেন নাহিদ?
খেলা ডেস্ক
২৭ জুলাই ২০২৬, ১৬:০৬
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে চোটে পড়ে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশের অন্যতম পেসার নাহিদ রানা। তার অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তবে নাহিদের চোটের পর স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে তার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের প্রশ্নও।
জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে সিরিজের দুটি ম্যাচ খেলার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও খেলেন নাহিদ। দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নেমেই চোটে পড়েন এই গতিতারকা। পরে নিশ্চিত হয়, অস্ট্রেলিয়া সফরে তাকে পাওয়া যাবে না।
নাহিদের চোটের পর বিসিবির পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা বিবেচনায় রেখে তাকে ওই সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া যেত কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে হাবিবুল বাশারও স্বীকার করেছেন, টি-টোয়েন্টি সিরিজে নাহিদকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ ছিল।
‘নাহিদ জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজে দুটি ম্যাচ খেলেছে। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ম্যাচ খেলেছে, দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যথা পেয়েছে। তবে টি-টোয়েন্টিতে না খেলালেও পারতাম। ওয়ানডে সিরিজটি বিশ্বকাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দুই বছর পর, সেখানে ওকে আমরা বিরতি দিতে পারতাম,’ বলেন প্রধান নির্বাচক।
তবে নাহিদকে টি-টোয়েন্টি দলে রাখার পেছনে ক্রিকেটীয় কারণও তুলে ধরেছেন তিনি। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের জন্য একজন ফাস্ট বোলারের জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার ম্যাচ বোলিংও প্রয়োজন হয়।
হাবিবুল বাশার বলেন, ‘বোলিংয়ে অনেক সময় ওভারলোড হয়ে গেলে রেড জোনে চলে যায়, আবার কম বোলিং করলেও রেড জোনে চলে যায়। গ্রিন জোনে থাকার জন্য তাকে যথেষ্ট পরিমাণে বোলিংও করতে হয়। ফলে নাহিদকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে কিছু একটা খেলতেই হতো। এই চিন্তাভাবনা থেকেই তাকে টি-টোয়েন্টিতে খেলানো হয়েছে।’
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ভিন্ন ধরনের উইকেটে নিজের গতি দিয়ে ইতোমধ্যে নজর কেড়েছেন নাহিদ। তাই অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি ও গতিময় উইকেটে তাকে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সমর্থকরাও। কিন্তু চোটের কারণে সেই সম্ভাবনা আপাতত শেষ হয়ে গেছে।
তবে নাহিদের এই চোটকে পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব ছিল কি না, সে বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন হাবিবুল বাশার। তার মতে, ফাস্ট বোলারদের ক্ষেত্রে চোটের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে।
‘নাহিদের এই চোটটা হয়তো অস্ট্রেলিয়া গিয়েও লাগতে পারত। কারণ একজন ফাস্ট বোলারকে কখনোই পুরোপুরি চোটমুক্ত রাখা যাবে না, যতই চেষ্টা করেন। ফাস্ট বোলারদের ইতিহাস দেখলে বিষয়টি বোঝা যায়। আমরা প্রতিটি মুহূর্তে তাকে বাড়তি যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করছি,’ যোগ করেন তিনি।