হৃদয়ের ঝড়, সাকিবের মূল্যবান উইকেটে ফাইনালে জাফনা
খেলা ডেস্ক
০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৩
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) প্রথম কোয়ালিফায়ারে রানের উৎসবের ম্যাচে গল গ্যালান্টসকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে জাফনা কিংস। ব্যাট হাতে তাওহীদ হৃদয়ের ঝড় আর বল হাতে সাকিব আল হাসানের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট জাফনাকে এনে দিয়েছে ১৪ রানের জয়।
দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে উঠেছে ৪৭০ রান। আগে ব্যাট করে ২ উইকেট হারিয়ে ২৪২ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে জাফনা। জবাবে দারুণ শুরু করেও মাঝের ওভারে ছন্দ হারায় গল গ্যালান্টস। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২২৮ রানে থামে তাদের ইনিংস।
বাংলাদেশি দুই তারকার উপস্থিতির কারণে ম্যাচটি ঘিরে বাড়তি আগ্রহ ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। ব্যাট হাতে সেই আগ্রহের পূর্ণতা দিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ২১ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে জাফনার বড় সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই টাইগার ব্যাটার।
জাফনার ইনিংসের মূল ভিত্তি অবশ্য গড়ে দেন কামিল মিশারা। ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্ডো ৩৫ রানে ফিরে গেলেও খাজা নাফে ও মিশারা মিলে গড়েন ১৩৮ রানের দুর্দান্ত জুটি। নাফে ৩২ বলে ৫৪ রান করে ফিরলে ক্রিজে আসেন হৃদয়। এরপর মিশারার সঙ্গে তাঁর ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি জাফনাকে পৌঁছে দেয় বড় সংগ্রহে।
মিশারা ছিলেন একেবারে অপ্রতিরোধ্য। ৫৫ বলে ১০ চার ও ৭ ছক্কায় ১০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে হৃদয়ের ২১ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৫টি ছক্কা। শেষ দিকে দুই ব্যাটারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২৪২ রানের পাহাড় গড়ে জাফনা।
২৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেলেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় গল। পাওয়ার প্লেতে ৮১ রান তুলে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে তারা। সেখানেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সাকিব আল হাসান।
নিজের প্রথম দুই ওভারে ২৮ রান খরচ করলেও অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন সাকিব। তৃতীয় ওভারে এসে তুলে নেন ভয়ংকর হয়ে ওঠা চামিকা করুনাত্নের উইকেট। আগ্রাসী হয়ে ওঠা গলের ব্যাটিং জুটিতে আঘাত হেনে জাফনাকে ম্যাচে ফেরান তিনি। ৩ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
সাকিবের সেই ব্রেকথ্রুর পর গলের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। চারিথ আসালাঙ্কা ২৭ ও স্যাম হার্পার ৪৪ রান করে ফিরলে চাপ বাড়ে। এরপর চামিকা করুণারত্নে ৩৯ ও দাসুন শানাকার ৩৪ রানের লড়াই কিছুটা আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত জয়ের কাছাকাছি যেতে পারেনি গল।
শেষ দিকে কালুপাহানা ও কলমবাগে ঝড় তুললেও শুধু হারের ব্যবধান কমেছে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ২২৮ রানে থামে তাদের ইনিংস। জাফনার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মোহাম্মদ সিরাজ। ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।
৪৭০ রানের এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ হাসি জাফনা কিংসের। হৃদয়ের ব্যাটিং ঝড় আর সাকিবের সময়োপযোগী আঘাতই নিশ্চিত করেছে তাদের ফাইনালের টিকিট।
এমআই