ছক্কা মারার সামর্থ্যে বিজয় থেকেও পিছিয়ে সাব্বির
খেলা ডেস্ক
০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৫১
ছক্কা মারার জন্যই নাকি তাঁর জন্ম! কয়েক দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন সাব্বির রহমান। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বড় শট খেলার সামর্থ্যের জন্য পরিচিত এই ব্যাটার। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পরও আঞ্চলিক ক্রিকেটে তাঁকে দলে নেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল ছক্কা হাঁকানোর ক্ষমতা। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ছক্কা মারার হিসাবে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটারদের তালিকায় সাব্বিরের অবস্থান এতটা ওপরে নয়। বরং তাঁর পরিসংখ্যান কাছাকাছি এনামুল হক বিজয় ও মোহাম্মদ মিথুনের। এমনকি বিজয়ের চেয়েও পিছিয়ে আছেন সাব্বির।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ২০০ ইনিংসে ব্যাট করেছেন সাব্বির। সেখানে তাঁর ছক্কার সংখ্যা ১৬৯টি। অর্থাৎ প্রতি ইনিংসে একটি করেও ছক্কা মারতে পারেননি তিনি।
অন্যদিকে সাব্বিরের চেয়ে কম ইনিংস খেলেও বেশি ছক্কা মেরেছেন এনামুল হক বিজয়। ১৯৯ ইনিংসে ৪৩৮৯ রান করেছেন এই ওপেনার। তাঁর ছক্কার সংখ্যা ১৭২টি। রান ও ছক্কা, দুই হিসাবেই সাব্বিরের চেয়ে এগিয়ে বিজয়।
দুজনের ব্যাটিংয়ের ধরন অবশ্য আলাদা। ওপেনার হিসেবে বিজয়ের বল খেলার সুযোগ বেশি। ১৯৯ ইনিংসে তিনি খেলেছেন ৩৬৩৯ বল। সাব্বির খেলেছেন ৩৪২০ বল। বল খেলার সংখ্যায় ব্যবধান খুব বেশি নয়। বরং মিডল অর্ডার ও স্লগ ওভারে ব্যাট করার কারণে সাব্বিরের ছক্কার সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার প্রত্যাশাই করা যায়। কিন্তু বাস্তব পরিসংখ্যান তা বলছে না।
মোহাম্মদ মিথুনও ছক্কার হিসাবে সাব্বিরের খুব একটা পেছনে নেই। ২০৩ ইনিংসে ব্যাট করে মিথুনের ছক্কার সংখ্যা ১৬০টি। অর্থাৎ ২০০ ইনিংসে সাব্বিরের ১৬৯ ছক্কার সঙ্গে মিথুনের ১৬০ ছক্কার ব্যবধান মাত্র ৯টি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের উঠতি ব্যাটারদের দিকে তাকালে সাব্বিরের অবস্থান আরও পিছিয়ে যায়। তানজিদ তামিম, তাওহীদ হৃদয় ও ইমন, তিনজনই তুলনামূলক কম ইনিংসে সাব্বিরের কাছাকাছি ছক্কা মেরেছেন।
তানজিদ ১১১ ইনিংসে হাঁকিয়েছেন ১৫১ ছক্কা। ইমন ১০৫ ইনিংসে মেরেছেন ১৫৩টি। আর তাওহীদ হৃদয় ১৬০ ইনিংসে ছক্কা হাঁকিয়েছেন ১৬৪টি। অর্থাৎ ইনিংসের হিসাবে সাব্বিরের চেয়ে অনেক কম খেলেই এই তিন ব্যাটার ছক্কার সংখ্যায় তাঁর কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।
সাব্বিরের পক্ষে অবশ্য বলা যেতে পারে, তিনি ওপেনিংয়ে ব্যাট করেননি। কিন্তু জাতীয় দল ও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ক্যারিয়ারের বড় একটা সময় টপঅর্ডারে খেলেছেন। আবার স্লগ ওভারে দ্রুত রান তোলার সুযোগও পেয়েছেন। ফলে ছক্কার হিসাবে তাঁর অবস্থান আরও শক্ত হওয়ার প্রত্যাশা থাকাটাই স্বাভাবিক।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট কিংবা ছক্কা মারার সামর্থ্য বিবেচনায়ও সাব্বির এখন সবার ওপরে নন। মাশরাফি বিন মুর্তজার স্ট্রাইক রেটের রেকর্ড এখনো সবার ওপরে। আর ছক্কা মারার সামর্থ্যে বর্তমান প্রজন্মের ইমন, হৃদয় ও তানজিদরা সাব্বিরকে পেছনে ফেলছেন অনেক আগেই।
সাব্বিরের দৃষ্টিনন্দন শটে ছক্কা মারার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু ‘ছক্কা মাস্টার’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মতো পরিসংখ্যানও নেই। ২০০ ইনিংসে ১৬৯ ছক্কা, বিপরীতে কম ইনিংসে বিজয়ের ১৭২ ছক্কা এবং কাছাকাছি অবস্থানে মিথুনের ১৬০ ছক্কা বলে দিচ্ছে, সাব্বিরের অবস্থান আসলে কোথায়।
এমআই