অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফল হতে পারবেন মুশফিক?
ইকবাল আজাদ
০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩৯
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর আগে কখনো টেস্ট খেলেননি মুশফিকুর রহিম। দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে গেছেন তিনি। ফলে এই সফরে সম্পূর্ণ নতুন কন্ডিশনের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগেই প্রস্তুতি ম্যাচে যে বার্তা দিয়েছেন মুশফিক, তা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়।
প্রস্তুতি ম্যাচের দুই ইনিংসে মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ০ ও ২ রান। দুবারই বাড়তি বাউন্সের বলে সমস্যায় পড়েছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যাটারের পুরোনো দুর্বলতাই যেন নতুন করে সামনে এসেছে প্রস্তুতি ম্যাচে।
মুশফিকের ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বড় অস্বস্তির জায়গা হলো প্রত্যাশার চেয়ে একটু বেশি বাউন্স পাওয়া বল। এর সঙ্গে যদি সামান্য সুইং যোগ হয়, তখন তাঁর সমস্যা আরও বেড়ে যায়। মিরপুরের তুলনামূলক নিচু ও ধীর কন্ডিশনে অভ্যস্ত মুশফিকের জন্য অস্ট্রেলিয়ার পেস, বাউন্স ও গতি তাই বড় পরীক্ষা হওয়ার কথা। প্রস্তুতি ম্যাচে সেই পরীক্ষার প্রথম ধাপেই ভালো করতে পারেননি তিনি।
প্রশ্ন হলো, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মূল সিরিজে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন মুশফিক? পরিসংখ্যান অবশ্য আশাবাদী হওয়ার খুব বেশি কারণ দিচ্ছে না। ডারউইন ও ম্যাকাইয়ের মতো অস্ট্রেলিয়ার ভেন্যুগুলোর সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের কিছু কন্ডিশনের মিল রয়েছে। বিশেষ করে হ্যামিল্টন ও ক্রাইস্টচার্চে পেস, বাউন্স ও মুভমেন্টের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হয় ব্যাটারদের।
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে মুশফিকের রেকর্ড বলছে, এই ধরনের কন্ডিশনে তাঁর দুর্বলতা বেশ প্রকট। টেস্টে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়েলিংটনের ১৫৯ রান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো ইনিংস নেই মুশফিকের। হ্যামিল্টনে একমাত্র টেস্টে দুই ইনিংসে তাঁর রান ছিল ৭ ও ২২। বাড়তি বাউন্সের সামনে দুই ইনিংসেই সমস্যায় পড়েছেন তিনি।
পেস, বাউন্স ও সুইংয়ের সমন্বয়ে বেশির ভাগ সময়ই স্বস্তিতে দেখা যায়নি বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে। শুধু টেস্টেই নয়, ওয়ানডেতেও নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে মুশফিকের রেকর্ড খুব একটা স্বস্তির নয়। হ্যামিল্টনে খেলা একমাত্র ওয়ানডেতে ১৫ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। অ্যান্ডারসনের বাউন্সার সামলাতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয়েছিল তাঁকে।
অর্থাৎ কন্ডিশন বদলালেই মুশফিকের দুর্বলতা যে সামনে চলে আসে, তার উদাহরণ কম নয়। আর অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন ও ম্যাকাইয়ে যদি পেস, বাউন্সের সঙ্গে বল কিছুটা মুভ করে, তাহলে মুশফিকের জন্য কাজটা আরও কঠিন হওয়ার কথা। মিরপুরের নিচু বাউন্সের উইকেট থেকে অস্ট্রেলিয়ার পেস ও বাউন্সে মানিয়ে নেওয়া তাই মুশফিকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রস্তুতি ম্যাচে দুই ইনিংসে ০ ও ২ রান করে সেই চ্যালেঞ্জের শুরুটা ভালো হয়নি তাঁর।
অভিজ্ঞতার কারণে মুশফিকের কাছ থেকে প্রত্যাশা থাকবেই। কিন্তু পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স একসঙ্গে রাখলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তাঁর ব্যাট থেকে বড় ইনিংসের আশা করা কঠিন। অজিদের কন্ডিশনে মুশফিকের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হতে পারে তাঁর পুরোনো দুর্বলতা—বাড়তি বাউন্স।
এমআই