Advertisement
Us Bangla Airlines
১৯ বলে ফিফটি করা জিসানকে নিয়ে ভয় যেখানে

১৯ বলে ফিফটি করা জিসানকে নিয়ে ভয় যেখানে

খেলা ডেস্ক

১০ আগস্ট ২০২৬, ২০:১০

জিসান আলমের ব্যাটে ঝড় উঠলেই চোখ আটকে যায়। কব্জির জোরে বলকে সীমানাছাড়া করার সামর্থ্য তার ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সেই অস্ত্রেরই দাপট দেখা গেল। মাত্র ১৯ বলে ফিফটি, শেষ পর্যন্ত ৬ ছক্কায় ২১ বলে ৫৭ রান। তবে জিসানের এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের মাঝেই লুকিয়ে আছে শঙ্কার জায়গা।

জিসানের ব্যাটিংয়ে ফুটওয়ার্কের ব্যবহার খুব বেশি নেই। বরং শরীরের শক্তি ও কব্জির জোরেই বড় শট খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। তবে সব বলেই নয়, নির্দিষ্ট কিছু জোনে বল পেলেই ভয়ংকর হয়ে ওঠেন এই ওপেনার। কিন্তু অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বেশ সংগ্রাম করেন তিনি। এমন বলে সঙ্গে সুইংয়ের মিশেল থাকলে সংগ্রাম বেড়ে যায় কয়েক গুণ।

মালয়েশিয়া সিরিজের প্রথম ম্যাচেই যার প্রমাণ মিলেছিল। নিজের পছন্দের লাইনে বল না পাওয়ায় জিসানকে বেশ সংগ্রাম করতে দেখা যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য মালয়েশিয়ার বোলাররা সেই সুযোগ করে দেন। স্টাম্প বা লেগ স্টাম্পের বাইরে পাওয়া বলগুলোকে কাজে লাগিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালান তিনি। মাত্র ১৯ বলেই তুলে নেন ফিফটি।

৫৭ রানের ইনিংসে ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন জিসান। কখনো পুল শটে, কখনো পিকআপ শটে, আবার কখনো হাঁটু গেড়ে স্লগ সুইপে বল পাঠিয়েছেন সীমানার বাইরে। তার ব্যাট থেকে একের পর এক বল উড়ে যাওয়ার দৃশ্য অবশ্যই দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষের চোখে এই ইনিংস বিশ্লেষণের উপাদানও কম নয়।

কারণ মালয়েশিয়ার বোলিং আক্রমণ খুব একটা আহামরি ছিল না। তার ওপর লেগসাইডে বড় শট খেলার দক্ষতা জিসানের ব্যাটিংয়ের বড় শক্তি। ছয়টি ছক্কার সবগুলোই হাঁকিয়েছেন মিডউইকেট অঞ্চলে। অর্থাৎ অফসাইডে তার কোনো বড় শট ছিল না। এটাই দ্রুততম ফিফটির পর শঙ্কা বাড়াচ্ছে।

মালয়েশিয়া সিরিজের এই ফিফটি নিঃসন্দেহে জিসানকে আত্মবিশ্বাস দেবে। কিন্তু প্রতিপক্ষ যদি তাকে নিয়ে একটু পড়াশোনা করে মাঠে নামে, তখনই সামনে আসতে পারে আসল পরীক্ষা। বিশেষ করে অফস্টাম্পের বাইরের বল নিয়ে তার দুর্বলতা এখনও স্পষ্ট।

সিরিজের প্রথম ম্যাচেও অফস্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বলে অস্বস্তিতে পড়েছিলেন জিসান। শেষ পর্যন্ত ডাক মেরে ফিরতে হয়েছিল তাকে। অর্থাৎ তাকে থামানোর পথ যে একেবারে অজানা, তা নয়। ঘরোয়া লিগেও এই করুণ দশা পুরোনো কাহিনী। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ অনুশীলন করে ফিরেন এই ব্যাটার।

তবুও জিসানকে নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। কব্জির এমন জোর, উড়িয়ে মারার এমন সামর্থ্য এবং অল্প সময়ে ম্যাচের চেহারা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা যে কোনো দলের জন্যই বড় সম্পদ হতে পারে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে সেটিই দেখিয়েছেন তিনি।

তবে এই সম্ভাবনাকে আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে ক্রিকেটীয় বেসিকেও জোর দিতে হবে জিসানকে। বিশেষ করে অফসাইডে খেলার দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। নিজের পছন্দের জোনের বাইরে বল সামলানোর ক্ষমতা তৈরি করতে পারলে কব্জির সেই জোর আর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং হয়ে উঠতে পারে আরও কার্যকর।

এমআই