অভিজ্ঞতা কম, তবুও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কেন এগিয়ে তামিম?
খেলা ডেস্ক
১২ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৩০
অভিষেক হলেও টেস্ট ফরম্যাটে খুব বেশি অভিজ্ঞতা নেই তানজিদ তামিমের। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই ব্যাটারের ম্যাচ সংখ্যা মাত্র ২৬টি। জাতীয় দলে টেস্ট অভিষেকের পর বাকি সময়টাও কেটেছে ডাগআউটে। অবশ্য সেই সময়টা খুব বেশি নয়, কেবল জিম্বাবুয়ে সিরিজেই দলে ছিলেন না তিনি। সেই তামিমকে নিয়েই এবার অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ। তবে একাদশে তার জায়গা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে।
অজিদের বিপক্ষে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের ভালো ব্যাটিং জরুরি। টাইগার ব্যাটারদের ধারাবাহিকভাবে ভালো ব্যাটিং করার অভ্যাস খুব একটা নেই। ফলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ফল কী হতে পারে, সেটিও আগেভাগে অনুমান করা কঠিন। জয়-পরাজয়ের হিসাব দূরে রাখলেও পাঁচ দিন টিকে থাকাটাই শান্তদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লড়াইয়ে ভালো করতে হলে ব্যাটারদের রানে ফিরতে হবে। শুরুটা করতে হবে টপঅর্ডারকেই।
বাংলাদেশের স্কোয়াডে টপঅর্ডার ব্যাটার হিসেবে আছেন তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। এই চারজনের মধ্যে তিনজন থাকবেন মূল একাদশে। তবে ওপেনিং জুটিতে তামিম থাকবেন কি না, তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। প্রস্তুতি ম্যাচে অবশ্য তামিম-সাদমান জুটিকেই দেখা গেছে। তবে বিদেশের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় একাদশে ফিরতে পারেন সৌম্যও।
তামিম কেন এগিয়ে?
বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ডারউইনে। পেস ও বাউন্সের জন্য এই মাঠ বেশ পরিচিত। বল কিছুটা স্কিড করায় দ্রুতই ব্যাটে আসে। ফলে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের নিচের গতির বলও ব্যাটারদের বেশ বিড়ম্বনায় ফেলতে পারে। এশিয়ান ক্রিকেটারদের জন্য এমন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ।
এই জায়গায় তানজিদ তামিমের কিছুটা বাড়তি অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওশেনিয়ায় যুব দলের হয়ে এমন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। ওশেনিয়ার সবচেয়ে পরিচিত দুই ক্রিকেট দেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কখনো না খেললেও নিউজিল্যান্ডের পিচে দারুণ স্মৃতি আছে এই ওপেনারের।
তবে সেই অভিজ্ঞতা কেবল ওয়ানডে ফরম্যাটের। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৫৬ গড়ে ২৮০ রান করেছিলেন তামিম। সিরিজের শেষ চার ইনিংসেই টানা ফিফটি হাঁকিয়েছিলেন এই ওপেনার। অর্থাৎ ওশেনিয়ার কন্ডিশনে পেস ও বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে রান করার সামর্থ্যের প্রমাণ আগেই দিয়েছেন তিনি।
অবশ্য নিউজিল্যান্ডের লিংকন আর অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের পিচের আচরণ এক নয়। লিংকনে বল স্কিড করার প্রবণতা কম। সেখানে সিম ও সুইংয়ের প্রভাব বেশি। অন্যদিকে ডারউইনে পেস ও বাউন্সের পাশাপাশি বল দ্রুত ব্যাটে আসতে পারে। ফলে দুই মাঠে চ্যালেঞ্জের ধরনেও পার্থক্য রয়েছে।
তবু উভয় কন্ডিশনেই পেস ও বাউন্স গুরুত্বপূর্ণ। সেই চ্যালেঞ্জ সামলানোর অভিজ্ঞতাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তামিমকে অন্যদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রাখতে পারে। টেস্টে অভিজ্ঞতা খুব বেশি না থাকলেও স্পোর্টিং উইকেটে ভালো খেলেন এই ব্যাটার। বল ব্যাটে ভালোভাবে এলে নিজের স্বাভাবিক খেলাটাও খেলতে পারেন।
তবে সব হিসাবই শেষ পর্যন্ত একাদশের ওপর নির্ভর করছে। তামিম-সাদমান জুটিকে প্রস্তুতি ম্যাচে দেখা গেলেও বিদেশের মাটিতে অভিজ্ঞতার কারণে সৌম্য সরকারও একাদশে ফিরতে পারেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের টপঅর্ডারে শেষ পর্যন্ত কারা থাকছেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এমআই