Advertisement
Us Bangla Airlines
১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়েও বড় জয় পেল বাংলাদেশ

১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়েও বড় জয় পেল বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক

১২ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৪

মাত্র ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। সেখান থেকে আবদুল্লাহ ও পিয়ানের ব্যাটে গড়ে প্রতিরোধ। শেষ দিকে জীবনের ঝড়ো ইনিংসে মিলে বড় সংগ্রহ। পরে বল হাতেও ঘূর্ণি জাদু দেখালেন জীবন। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মালয়েশিয়াকে ১৫৩ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে বুধবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৯০ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১৩৭ রানেই গুটিয়ে যায় মালয়েশিয়া। ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। একই মাঠে শুক্রবার হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। সেই ম্যাচে জয় পেলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত হবে টাইগারদের।

এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল যাচ্ছেতাই। চার ওভারের মধ্যেই ড্রেসিংরুমে ফিরে যান জাওয়াদ আবরার, ইকবাল হোসেন ও রিজান হোসেন। জাওয়াদ করেন ৫ রান, ইকবাল ও রিজান ফেরেন কোনো রান না করেই। মাত্র ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন বিপদে বাংলাদেশ।

অধিনায়ক কালাম সিদ্দিকি এলিনকে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন শাহরিয়ার সাকিব। তবে ২৬ বলে ২১ রান করে ফিরে যান তিনি। এরপর পঞ্চম উইকেটে আবদুল্লাহ ও এলিন মিলে গড়ে তোলেন ৪৯ রানের জুটি। ভুল বোঝাবুঝিতে এলিন রানআউট হলে ভাঙে সেই জুটি। অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৫৬ বলে ৩৪ রান।

এরপরও বাংলাদেশের ইনিংসের হাল ছাড়েননি উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। এক পর্যায়ে ২৫ ওভারে ৫ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৮ রান। সেখান থেকে শেষ ২৫ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে আরও ১৯২ রান যোগ করে বাংলাদেশ।

দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন আবদুল্লাহ ও পিয়ান। শুরুতে দেখেশুনে খেলার পর ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়ান দুই বাঁহাতি ব্যাটার। সব মিলিয়ে ১০৯ বলে ১০৩ রানের জুটি গড়েন তারা। জুটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পর ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৬২ বলে ৬১ রান করে ফেরেন পিয়ান।

অন্যদিকে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি আবদুল্লাহ। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। শেষ দিকে দায়িত্ব নেন শেখ পারভেজ জীবন। মাত্র ১৮ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার দ্রুতগতির ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছে যায় ২৯০ রানে।

মালয়েশিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আরিফ উল্লাহ। ৫৩ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন তিনি।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই তেমন সুবিধা করতে পারেনি মালয়েশিয়া। ষষ্ঠ ওভারে প্রথম উইকেট তুলে নেন মাহফুজুর রহমান রাব্বি। এরপর সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান বাংলাদেশের অফ স্পিনার শেখ পারভেজ জীবন ও লেগ স্পিনার স্বাধীন ইসলাম।

দলীয় ৫০ রান পূর্ণ হওয়ার আগেই ৪ উইকেট হারায় মালয়েশিয়া। এরপর মাত্র ৭৬ রানেই ড্রেসিংরুমে ফিরে যান তাদের ৮ ব্যাটার। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে অবশ্য লড়াই চালিয়ে যান আহমেদ জুবাইদি জুলকিফলে। নবম উইকেটে সৈয়দ জুনায়েদ খানকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ে দলকে কিছুটা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত সেই জুটিও ভাঙেন জীবন। জুলকিফলেকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশের অফ স্পিনার। তার ব্যাট থেকে আসে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৬ বলে ৪২ রান। এরপর সৈয়দ জুনায়েদ খানকে বোল্ড করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন জীবন।

সব মিলিয়ে ৭.৫ ওভার বল করে ১ মেডেনসহ মাত্র ১৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন জীবন। ব্যাট হাতে ১৮ বলে ৩৫ রানের পর বল হাতেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি।

জীবনের সঙ্গে বল হাতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন স্বাধীন ইসলাম। ৯ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৩২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার। বাঁহাতি পেসার মারুফ মৃধাও ২০ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।

এমআই