সুইংয়ের মায়াজালে হাসানের ৬ শিকার
খেলা ডেস্ক
১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০৫
সিম ডেলিভারিতে তাসকিন আহমেদ, ওবল সিমে হাসান মাহমুদ। দুই পেসারের বোলিং বৈচিত্র্যে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করেছে বাংলাদেশ। ২০০ রানের আগেই অস্ট্রেলিয়াকে থামানোর নেপথ্য কারিগর সেই হাসানই। একাই ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেটের বেশি শিকারের কীর্তি গড়েছেন লক্ষ্মীপুর এক্সপ্রেস।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হাসানের এমন বোলিং যেন ছিল সময়ের অপেক্ষা। ইনিংসের শুরু থেকেই সিম ডেলিভারির দারুণ প্রদর্শনী দেখিয়েছেন এই পেসার। কখনো বল ভেতরে ঢুকিয়েছেন, কখনো বাইরে বের করেছেন। দুই ওপেনারকে একের পর এক ডেলিভারিতে বিভ্রান্ত করে রেখেছিলেন তিনি। তার এমন বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়ে ধারাভাষ্য কক্ষ থেকেও প্রশংসায় মেতেছিলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা।
এর মাঝেই হাসানকে প্রথম উইকেট উপহার দেন জেক ওয়েদারল্ড। স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বল খোঁচা দিতে গিয়ে এজ করেন এই ওপেনার। বল জমা পড়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে। ২৩ রান করে ওয়েদারল্ড ফিরলে ভাঙে অস্ট্রেলিয়ার ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
ট্রাভিস হেডও খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন না হাসানের সামনে। হালকা লাফিয়ে ওঠা বলে সুইংয়ের মিশেল বুঝে উঠতে পারেননি এই আগ্রাসী ওপেনার। ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল আঘাত করে স্টাম্পে। প্রথম সেশনেই দুই উইকেট নিয়ে হাসান যেন জানিয়ে দেন, বড় কিছুর জন্যই প্রস্তুত তিনি।
তার আসল ঝলক অবশ্য দেখা গেছে পরের দুই সেশনে। লেংথে ফেলে বলকে দুই দিকে নড়াচড়া করানোর পাশাপাশি ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করেছেন হাসান। প্যাট কামিন্সকে স্টাম্পের বাইরের লোভনীয় বল দেখিয়ে কাট শট খেলতে প্রলুব্ধ করেন। শেষ মুহূর্তে বলের সামান্য গতি পরিবর্তনে ব্যাটের কানায় লেগে সেটি চলে যায় লিটনের গ্লাভসে।
মিচেল স্টার্ককেও সিমের ওপর বল ফেলে দুই দিকে ঘুরিয়ে বেশ কিছুক্ষণ নাচিয়েছেন হাসান। শেষ পর্যন্ত সিম-আপ ডেলিভারিতেই অস্ট্রেলিয়ার এই পেসারকে পরাস্ত করেন তিনি।
স্টিভ স্মিথের উইকেটটি অবশ্য শুধু হাসানের বোলিংয়ের কৃতিত্বে নয়, বাংলাদেশের বুদ্ধিদীপ্ত ফিল্ডিং পরিকল্পনারও ফসল। লোয়ার অর্ডারের সঙ্গে ব্যাট করছিলেন স্মিথ। সিঙ্গেল নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দিতে ত্রিশ গজের ভেতরে ফিল্ডার বাড়িয়ে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাতেই যেন মেজাজ হারান অস্ট্রেলিয়ার এই তারকা ব্যাটার।
হাসানের খাটো লেংথের বলে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে পুল করতে চেয়েছিলেন স্মিথ। কিন্তু ব্যাটের টপ এজে বল উঠে যায় আকাশে। সহজ ক্যাচ তালুবন্দী করেন লিটন। ৭১ রানে স্মিথের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফাইফার পূর্ণ হয় হাসানের।
তবে ষষ্ঠ উইকেটটি যেন অপেক্ষা করছিল তার জন্যই। শেষদিকে নাথান লায়নকে শর্ট লেংথের বলে বিভ্রান্ত করেন হাসান। অস্বস্তিতে পুল করতে গিয়ে বল তুলে দেন মিডউইকেটে। সহজ ক্যাচটি তালুবন্দী করেন তানজিদ হাসান তামিম। তাতেই ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন হাসান।
হাসানের এই ৬ উইকেট শুধু অস্ট্রেলিয়াকে ২০০ রানের নিচে আটকে দেয়নি, বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের গভীরতাও আরও একবার সামনে এনেছে। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া পেসার এখন ছয়জন। সেই তালিকায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করলেন লক্ষ্মীপুর এক্সপ্রেস।
এমআই