Advertisement
Us Bangla Airlines
অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে যে পরিকল্পনা ছিল মিরাজদের

অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে যে পরিকল্পনা ছিল মিরাজদের

খেলা ডেস্ক

১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০২

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর বাংলাদেশ। তার ওপর প্রতিপক্ষ টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল। এমন বাস্তবতায় অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বপ্ন দেখাও কঠিন। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজের বিশ্বাস ছিল অন্যরকম। প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যাটিং ধসেও সেই বিশ্বাসে চিড় ধরেনি। ডারউইন টেস্টে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়ার পথে বড় ভূমিকা রাখেন এই অলরাউন্ডার।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মিরাজ জানালেন, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর বিশ্বাসটা তৈরি হয়েছিল ম্যাচের আগেই। তিনি বলেন, ‘আমরা চমৎকার ক্রিকেট খেলেছি। অনেক দিন পর আমরা এখানে এলাম। দলের অসাধারণ পারফরম্যান্স ছিল, যা আমাদের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।’

প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন মিরাজ। অথচ সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। এমন ব্যাটিং ধসও দলের আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে করতে পারেনি। কারণ লক্ষ্যটা পরিষ্কার ছিল, বিশ্বাস রাখতে হবে নিজেদের ওপর।

মিরাজের ভাষায়, ‘আমাদের সেই বিশ্বাসটা ছিল। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বমানের দল এবং তাদের দলে অনেক ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। আমরা জানতাম, যদি ওদের হারাতে পারি, তবে তা আমাদের দেশের জন্য দারুণ কিছু হবে। বার্তা একটাই ছিল, আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে, তা না হলে এটা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে পারফর্ম করতে হবে, তা নিয়ে ভাবতে হবে।’

বিশ্বাসের পাশাপাশি পরিকল্পনাও ছিল পরিষ্কার। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে ঠিক সময়েই ব্যাটে-বলে নিজেদের সেরাটা দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের কার্যকর ব্যাটিংয়ের পর নিচের সারির ব্যাটারদের অবদানও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।

নিজের ইনিংসে টেল এন্ডারদের অবদানের কথাও আলাদা করে স্মরণ করেছেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা সঠিক সময়ে ভালো ব্যাটিং ও বোলিং করেছি। প্রথম ইনিংসে তানজিদ তামিম যেভাবে ব্যাট করেছে, শান্ত ও মুমিনুল খুব ভালো করেছে। তারপর নিচের সারির ব্যাটারদের সঙ্গে চমৎকার জুটি আমাকে সাহায্য করেছে। ওরা আউট হয়ে গেলে আমি রানগুলো করতে পারতাম না। ওরা ক্রিজে টিকে ছিল বলেই আমি সেটা করতে পেরেছি।’

মিরাজের সেই বিশ্বাস, পরিকল্পনা আর সতীর্থদের সাহস জোগানোর ফল মিলেছে মাঠেই। ব্যাটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পর বল হাতেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।