অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে কি কিছু হয়েছে?
খেলা ডেস্ক
২১ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩০
বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগের দিন অস্ট্রেলিয়ার একাদশ নিয়ে তৈরি হয়েছিল রহস্য। ম্যাচের আগের দিনই দল ঘোষণা করবে না বলে জানিয়েছিলেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। অথচ তাঁর সেই বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই একাদশ ঘোষণা করে বসে অস্ট্রেলিয়া। এত দ্রুত সিদ্ধান্ত বদল কেন? তাহলে কি অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল?
ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার কথাই জানিয়েছিলেন কামিন্স। বিশেষ করে নাথান লায়নকে খেলানো হবে, নাকি স্কট বোল্যান্ডকে এনে চার পেসারের আক্রমণ সাজানো হবে, সেটি নিয়ে আরও এক দিন ভাবতে চেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কামিন্স বলেছিলেন, ‘আরও এক দিন দেখে নিতে চাই—চারজন ফাস্ট বোলার খেলাব, নাকি একজন স্পিনার।’
কিন্তু সেই ‘আরও এক দিন’ অপেক্ষা আর করা হলো না। কামিন্সের সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ পরই বদলে গেল পরিস্থিতি। লায়নকে একাদশে রেখেই দল ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া। স্কট বোল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত জায়গা দেওয়া হয়নি। কেন এত দ্রুত সিদ্ধান্ত বদল? অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে কি তাহলে কিছু হয়েছে?
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ক্রিকেটডটকমডটএইউ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কামিন্সের সংবাদ সম্মেলনের পরপরই নির্বাচকেরা মাঠের পাশে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকেই লায়নকে একাদশে রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। অর্থাৎ অধিনায়ক যখন তখনো সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেননি, তার কিছুক্ষণ পরই নির্বাচকেরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।
বিষয়টি তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করছে। অধিনায়ক কি নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না? নাকি সংবাদ সম্মেলনের পরেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে? নিশ্চিত করে বলার মতো তথ্য অবশ্য নেই। তবে ঘটনাপ্রবাহে অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্টে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত একাদশে পরিবর্তন অবশ্য মাত্র একটি। জ্যাক ওয়েদারল্ডের জায়গায় তিন বছর পর টেস্টে ফিরেছেন ম্যাট রেনশ। বাকি দল ডারউইন টেস্টের মতোই রাখা হয়েছে। মার্নাস লাবুশেনও তিন নম্বরে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। ওয়েবস্টারও প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হয়ে আছেন শেষ ম্যাচের একাদশে।
সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত অবশ্য লায়নকে নিয়ে। ম্যাকাইয়ের পেস সহায়ক কন্ডিশনে তাঁকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ এই স্পিনারকেই রেখে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে কামিন্সের ‘একাদশ পরে’ দেওয়ার ঘোষণা এবং তার কিছুক্ষণ পরই একাদশ প্রকাশের ঘটনা এখন আলোচনায়।
তাহলে কি অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে সত্যিই কিছু হয়েছে? নাকি শেষ মুহূর্তের নির্বাচক বৈঠকেই শুধু বদলে গেছে পরিকল্পনা? উত্তরটা অস্ট্রেলিয়াই ভালো জানে। তবে কামিন্সের বক্তব্যের পর এত দ্রুত একাদশ ঘোষণা যে প্রশ্ন তৈরি করেছে, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই।
এমআই