এমন অধিনায়কই তো খুঁজছিল বাংলাদেশ
খেলা ডেস্ক
২১ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৪২
বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মুর্তজার অধ্যায় শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু নেতৃত্বের সাফল্যে এখনো দেশসেরা অধিনায়ক হিসেবেই উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। ক্যারিয়ারের শেষদিকে পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা থাকলেও বাংলাদেশকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মাশরাফির অবদান অনস্বীকার্য।
২০১৯ বিশ্বকাপে মাশরাফির পারফরম্যান্স নিয়ে ছিল হতাশা। নিজের সামর্থ্যের কাছাকাছি পারফরম্যান্স করতে পারলে হয়তো তাঁর নেতৃত্বের শেষ অধ্যায়টা আরও সুন্দর হতে পারত। তবু সব সমালোচনা ছাপিয়ে অধিনায়ক মাশরাফির কীর্তি এখনো বাংলাদেশের ক্রিকেটে আলাদা জায়গা দখল করে আছে।

মাশরাফির পর বাংলাদেশ যেন এমন একজন অধিনায়কই খুঁজছিল, যিনি নেতৃত্বের পাশাপাশি নিজের পারফরম্যান্সেও দলকে সামনে থেকে পথ দেখাবেন। টেস্ট ফরম্যাটে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে সেই অপেক্ষার যেন অবসান ঘটছে।
অধিনায়ক হিসেবে শান্ত শুধু মাঠের সিদ্ধান্তেই নজর কাড়ছেন না, ব্যাট হাতেও হয়ে উঠেছেন দলের অন্যতম ভরসা। তাঁর নেতৃত্বে ২০ টেস্টে ৯টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ড্র হয়েছে একটি। বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কই টেস্টে এর আগে এত ম্যাচ জয়ের স্বাদ পাননি। সেই রেকর্ডই ভেঙেছেন শান্ত।
নেতৃত্বের সময়ে ব্যাট হাতেও তাঁর পারফরম্যান্স বেশ উজ্জ্বল। অধিনায়ক হিসেবে ৩৬ ইনিংসে প্রায় ৪০ গড়ে করেছেন ১৩৮০ রান। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও চারটি ফিফটি। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয়, সাধারণ ব্যাটার শান্তর গড় যেখানে মাত্র ২৯, অধিনায়ক হিসেবে সেখানে তাঁর গড় প্রায় ৪০।

অধিনায়কত্বের চাপ যেখানে অনেকের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে, শান্তর ক্ষেত্রে যেন ঘটছে উল্টোটা। বাড়তি দায়িত্ব যেন তাঁর ব্যাটিংকে আরও ধারালো করে তুলেছে। শুধু নিজের পারফরম্যান্স নয়, নেতৃত্বকালীন সময়ে দলের অন্য ব্যাটারদের তুলনায়ও বেশি রান করেছেন শান্ত। সেঞ্চুরিও এসেছে নিয়মিত।
বাংলাদেশ হয়তো এতদিন এমন একজন অধিনায়কই খুঁজছিল, যিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন এবং পারফরম্যান্সও করবেন। শান্ত এখন পর্যন্ত সেই চাহিদারই সবচেয়ে কাছাকাছি উদাহরণ। মাশরাফির সঙ্গে শান্তর তুলনা অবশ্য সময়ই ঠিক করবে। তবে দুজনই অধিনায়কত্বের দায়িত্বকে নিজেদের শক্তিতে পরিণত করেছেন।
এমআই