Advertisement
Us Bangla Airlines
১৮ উইকেট হারানোর দিনে বাঁহাতি পেসারদের দাপট

১৮ উইকেট হারানোর দিনে বাঁহাতি পেসারদের দাপট

খেলা ডেস্ক

২২ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২০

ম্যাকাইয়ে টস জয় যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা প্রথম দিনেই স্পষ্ট হয়ে গেল। মেঘলা আবহাওয়া, উইকেটে আর্দ্রতা, সঙ্গে নতুন বলের বাড়তি সুবিধা। এমন কন্ডিশনে শুরুতে ব্যাটিং করা যে কঠিন হবে, সেটি দুই দলই বুঝেছিল। টস জিতলে তাই উভয় দলেরই ছিল ফিল্ডিং নেওয়ার ইচ্ছা। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় ছিল অস্ট্রেলিয়ার। বাংলাদেশকে বাধ্য হয়ে নামতে হয় ব্যাটিংয়ে।

এরপর যা হলো, তা বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের জন্য রীতিমতো দুঃস্বপ্ন। মিচেল স্টার্কের আগুনঝরা বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যায় তারা। ম্যাচের প্রথম বলেই সাদমানকে ফিরিয়ে ধাক্কা দেন স্টার্ক। পরের ওভারের প্রথম দুই বলে তামিম ও শান্তকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান এই বাঁহাতি পেসার। এরপর মুমিনুল ও লিটনও টিকতে পারেননি।

মাত্র ২২ বলেই ফাইফার পূর্ণ করেন স্টার্ক। এই সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১২ রানে ৫ উইকেট। শেষ ব্যাটার হিসেবে নেমে রান বাড়ান শরিফুল ইসলাম। ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন এই বাঁহাতি পেসার। শেষ পর্যন্ত তার অবদানে কোনো রকমে ৬৪ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশ। ফাইফার নেওয়া স্টার্ক শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট শিকার করেন।

তবে স্টার্কের সেই তাণ্ডবের জবাব বল হাতে দুর্দান্তভাবেই দিয়েছেন শরিফুল। ইনজুরি কাটিয়ে ইবাদতের জায়গায় একাদশে ফিরেই যেন অগ্নিমূর্তি ধারণ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ম্যাট রেনশকে স্লিপে তামিমের ক্যাচ বানিয়ে প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। ৮ রানেই থামেন জেক ওয়েদারাল্ডের বদলে সুযোগ পাওয়া রেনশ।

এরপর শুরু শরিফুলের শো। অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলেই ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন অস্ট্রেলিয়ার এই ওপেনার, করেন ২২ রান। চার বল পরেই আবার আঘাত। এবার ৯ বলে ৪ রান করে বোল্ড মার্নাস লাবুশেন। মাত্র ৪১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

তবে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে পরিস্থিতি সামাল দেন। দুজনের পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে উল্টো চাপ তৈরি হয় বাংলাদেশের ওপর। শেষ পর্যন্ত সেই জুটিও ভাঙেন শরিফুল। ৭৭ রানের জুটি গড়ে ফেলা স্মিথকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। ৬ চারে ৭৪ বলে ৪২ রান করেন সাবেক অজি অধিনায়ক। ১১৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

এরপরই শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধস। গ্রিনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অ্যালেক্স ক্যারি। কিন্তু তাদের জুটি ২৭ রানের বেশি এগোয়নি। মেহেদী হাসান মিরাজ ক্যারিকে ৫ রানে হাসান মাহমুদের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান। এরপর মাত্র ৩ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া।

প্রথমে গোল্ডেন ডাক মেরে শরিফুলের ষষ্ঠ শিকার হন বেউ ওয়েবস্টার। এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত রিভিউ করেও বদলাতে পারেননি তিনি। দুই বল পর প্যাট কামিন্সকে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান শরিফুল। নতুন ব্যাটার মাত্র ১ রান করে বোল্ড হন এই বাঁহাতি পেসারের বলে।

এরপর বাংলাদেশের ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া স্টার্ককেও নিজের শিকারে পরিণত করেন শরিফুল। এক ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার গড়েন তিনি। অথচ আগের ১৩ টেস্টে কখনো ৪ উইকেটও নিতে পারেননি এই পেসার। ফিরে এসেই যেন সব হিসাব চুকিয়ে দিলেন শরিফুল।

শেষ পর্যন্ত ক্যামেরন গ্রিন ও নাথান লায়নের অবিচ্ছিন্ন ১৭ রানের জুটিতে দিন শেষ করে অস্ট্রেলিয়া। গ্রিন অপরাজিত ৫১ রানে, লায়ন ১০ রানে। অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৬৫। প্রথম ইনিংসে তাদের লিড ১০১ রানের।

দিন শেষে দুই দলের মোট ১৮ উইকেটের পতন। এর মধ্যে ১২টিই নিয়েছেন দুই দলের দুই বাঁহাতি পেসার। স্টার্কের আগুনের জবাব শরিফুল দিয়েছেন আগুন দিয়েই। এখন বাংলাদেশের অপেক্ষা দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার বাকি দুই উইকেট তুলে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নতুন লড়াই শুরু করার।

এমআই