Advertisement
Us Bangla Airlines
দুই দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

দুই দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৩

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস লিখেছিল বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ে সেই বাংলাদেশই যেন হারিয়ে গেল ২৩ বছর পেছনে। দুই ম্যাচের ব্যবধান তো বটেই, পারফরম্যান্সের ব্যবধানও ছিল আকাশ-পাতাল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাওয়া সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার তাদেরই বিপক্ষে দুই দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ।

ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শেষটাও হলো অসহায় আত্মসমর্পণে। দ্বিতীয় সেশনে মাত্র ৩১ রান যোগ করতেই হারিয়ে ফেলল পাঁচ উইকেট। ৫১ রানে ৩ উইকেট থেকে ৮২ রানে ৮ উইকেট। এরপর ইনিংস হার এড়ানোর লড়াইটা হয়ে গেল নিছক আনুষ্ঠানিকতা।

শেষ পর্যন্ত ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। মুশফিকুর রহিম ২৯ ও তাসকিন আহমেদ ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেছেন মুশফিক, কিন্তু অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেটের পতন থামাতে পারেননি তিনি।

দ্বিতীয় সেশনে নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায় দিয়েই শুরু হয় ধস। মুশফিকের সঙ্গে ২৭ রানের জুটি গড়েছিলেন অধিনায়ক। নাথান লায়নের বলে সেই জুটি ভাঙতেই যেন খুলে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের বাঁধ।

এরপর লিটন দাসকে ফিরিয়ে দেন মিচেল স্টার্ক। তাতেই টানা তিন ইনিংসে ডাকের লজ্জায় পড়েন বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটার। পরপর দুই ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের লেজটাও বের করে দেন প্যাট কামিন্স।

মিরাজ মাত্র ১ রান করে অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন। হাসান মাহমুদ ২ রানে শর্ট লেগে ট্র্যাভিস হেডের হাতে ধরা পড়েন। এরপর মুশফিকের সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন তাইজুল ইসলাম। কিন্তু ২৪ বলে ৭ রান করে স্টার্কের বলে বোল্ড হন তিনি। এই উইকেটেই ম্যাচে দশ উইকেট পূর্ণ করেন অজি পেসার।

অথচ দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের শুরুটাই হয়েছিল ঘুরে দাঁড়ানোর আশায়। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোর ছিল ৩৯। শান্ত ২৩ ও মুশফিক ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। কিন্তু সেই সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ টেকেনি।

অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রানের জবাবে ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমেছিল বাংলাদেশ। শুরুতেই স্টার্কের তোপে পড়ে সফরকারীরা। তৃতীয় ওভারেই পরপর দুই বলে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে ফিরিয়ে দেন তিনি।

প্রথমে সাদমানকে ১ রানে পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের ক্যাচ বানান স্টার্ক। পরের বলেই মুমিনুলের অফস্টাম্প উড়িয়ে দেন অজি পেসার। মাত্র ৫ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন গভীর চাপে।

সেখান থেকে কিছুটা পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন শান্ত। স্টার্ককে নবম ওভারে টানা দুটি চারও মারেন তিনি। রান তুলছিলেন দ্রুত, ব্যাটে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। কিন্তু অধিনায়কের সেই লড়াইও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

তানজিদ হাসান তামিমকে ফিরিয়ে দেন প্যাট কামিন্স। ৩৪ বলে ৯ রান করে বাউন্ডারির সামনে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ এরপর টানা দুই ইনিংসে ডাক মেরেছিলেন। এবার রানের খাতা খুললেও দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারলেন না।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস অবশ্য আরও করুণ ছিল। মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে থামিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে শরিফুল ইসলাম গড়েন দুর্দান্ত এক কীর্তি। ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন তিনি।

দ্বিতীয় দিন ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। দিনের অষ্টম ওভারেই সেট ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল। বাংলাদেশের এলবিডব্লিউ আবেদন নাকচ হলে রিভিউ নেয় তারা। ইনসুইং ইয়র্কারে গ্রিনের পায়ের আঙুলে আঘাত করে বল। রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত বদলায়। ১০৫ বলে ১০ চারসহ ৬৭ রানে থামেন গ্রিন।

শেষ দিকে নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউডের ২৪ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়ার লিড আরও বাড়িয়ে দেয়। হ্যাজেলউডকে ৬ রানে সাদমানের ক্যাচ বানান তাইজুল। লায়ন ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে থামিয়েও তাই শেষ রক্ষা হলো না বাংলাদেশের।