Advertisement
Us Bangla Airlines
৭৫০ বলের টেস্টে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

৭৫০ বলের টেস্টে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

খেলা ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১২

ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট শেষ হয়েছে দেড় দিনের একটু বেশি সময়ে। বলের হিসাবে পুরো ম্যাচে খেলা হয়েছে মাত্র ৭৫০ বল। এত দ্রুত শেষ হওয়া টেস্ট ইতিহাসে বিরল। পুরুষদের সম্পূর্ণ হওয়া টেস্টের মধ্যে এটি চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম এবং বলের হিসাবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম। 

ম্যাচের দৈর্ঘ্য যেমন ছিল ছোট, রেকর্ডের তালিকা তেমনই হয়েছে লম্বা। স্টার্ক ও শরিফুল গতির তাণ্ডবে ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি। দুই দলের সম্মিলিত রান হয়েছে ৩৬৯। টেস্টে এটি ষষ্ঠ সর্বনিম্ন সম্মিলিত রান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর চেয়ে কম রান হয়েছে মাত্র একবার, ১৯৩২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। সেই ম্যাচে দুই দলের মোট রান ছিল ২৩৪। 

দুই ইনিংসেই শতরানের নিচে বাংলাদেশ

ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা গড়েছে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বিব্রতকর এক অধ্যায়। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। একই টেস্টের দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৫৯ রানও নিজেদের সর্বনিম্ন টেস্ট অ্যাগ্রিগেট। এর আগে ২০১৮ সালে নর্থ সাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ইনিংসে মোট ১৮৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। 

২১০ রান করেও ইনিংস জয় অস্ট্রেলিয়ার

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসও খুব বড় ছিল না। শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই ২১০ রানই যথেষ্ট হয়েছে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের জন্য। টেস্ট ইতিহাসে ২১০ বা তার কম রান করে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের ঘটনা মাত্র চারটি। সবশেষ জয়ী দলের নাম অস্ট্রেলিয়া

১০ উইকেটে স্টার্কের ঝড়

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় মিচেল স্টার্ক। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এই ১০ উইকেট নিতে হাত ঘুরিয়েছেন মাত্র ১০৯ বল। টেস্টে এর চেয়ে কম বলে ১০ উইকেট নেওয়ার ঘটনা মাত্র চারটি। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে এটিই দ্রুততম। গত বছরের পার্থ অ্যাশেজ টেস্টে নিজের প্রথম ১০ উইকেট নিতে স্টার্কের লেগেছিল ১২৩ বল। 

এটি টেস্ট ক্যারিয়ারে স্টার্কের চতুর্থ ১০ উইকেটের ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি এমন কীর্তি আছে শুধু ডেনিস লিলির, ৭টি। বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে অবশ্য স্টার্কের সামনে আছেন ওয়াসিম আকরাম, যিনি পাঁচবার এক টেস্টে ১০ উইকেট নিয়েছেন। 

২২ বলেই পাঁচ উইকেট

শুধু ম্যাচে ১০ উইকেট নয়, বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসেও স্টার্ক গড়েছেন আরেক কীর্তি। মাত্র ২২ বলের মধ্যে বাংলাদেশের পাঁচ ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠান তিনি। টেস্ট ইতিহাসে বলের হিসাবে এটি পঞ্চম উইকেট পাওয়ার ষষ্ঠ দ্রুততম ঘটনা। অবশ্য এই তালিকার শীর্ষেও আছেন স্টার্ক। গত বছর কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলেই পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। 

শরিফুলের সাত উইকেটেও ইতিহাস

বাংলাদেশের ব্যাটিং যখন একের পর এক ধসে পড়ছিল, তখন বল হাতে একাই লড়েছেন শরিফুল ইসলাম। ৪৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৭ উইকেট। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টের এক ইনিংসে এটাই সেরা বোলিং ফিগার। শাহাদাত হোসেনের ২০০৮ সালের ৬ উইকেটের রেকর্ড পেরিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছেন শরিফুল। বাংলাদেশের সব বোলার মিলিয়ে তার ৭/৪৮ এখন তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার। 

অজিদের মাটিতে বিরল স্পেল

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও শরিফুলের এই স্পেল বিরল। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি পেসারের ৭ উইকেট নেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। এর আগে এই কৃতিত্ব ছিল কেবল ইংল্যান্ডের দুই বাঁহাতি পেসার টম এমেট (১৮৭৯ সালে ৬৮ রানে ৭ উইকেট) ও রিচার্ড বার্লোর (১৮৮৩ সালে ৪০ রানে ৭ উইকেট)।

এমআই