জালিয়াতির অভিযোগে দুই বছর নিষিদ্ধ ভারতের রোহিত
খেলা ডেস্ক
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৩৮
বয়স নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে বড় শাস্তি পেলেন ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগস্পিনার রোহিত যাদব। নথিপত্র যাচাইয়ে প্রকৃত বয়সের সঙ্গে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে আর খেলা হচ্ছে না তার।
জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের যুব দলের হয়ে সিরিজ খেলেছিলেন রোহিত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলতি মাসের শেষদিকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দলেও জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। সূচিতে রয়েছে পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি চারদিনের ম্যাচ। কিন্তু বয়সসংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ায় সেই সিরিজ শুরুর আগেই দল থেকে ছিটকে গেলেন এই লেগস্পিনার।
রোহিতের বয়স নিয়ে অসঙ্গতিটি ধরা পড়ে সিএবির প্রাক-মৌসুম নথিপত্র যাচাইয়ের সময়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বেঙ্গলের হয়ে খেলা এই ক্রিকেটারের দেওয়া বয়সের সঙ্গে মূল নথির পার্থক্য পাওয়া গেছে ২৭ মাসের। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেয় সিএবি। নিষেধাজ্ঞার খবর বিসিসিআইয়ের অধীন সব রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রোহিতের ঘটনায় অবশ্য থেমে নেই বয়স জালিয়াতির বিতর্ক। একই যাচাই প্রক্রিয়ায় বয়সসংক্রান্ত অসঙ্গতি পাওয়া গেছে ভারতের ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য রবি কুমারের নথিতেও।
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২২ সালের যুব বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। ফাইনালে বাঁহাতি পেসার রবি কুমার বল হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। ৩৪ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। ২০২৩ সালে সর্বশেষ বেঙ্গল দলের হয়ে খেলা এই ক্রিকেটারের দেওয়া বয়সের সঙ্গে মূল নথির পার্থক্য পাওয়া গেছে ৪০ মাসের। ফলে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত তার দেওয়া বয়সভিত্তিক সব তথ্য অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুধু রোহিত যাদব ও রবি কুমার নন, সিএবির যাচাইয়ে মোট ৬৪ জন ক্রিকেটারের বয়সসংক্রান্ত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। প্রাক-মৌসুম কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খেলোয়াড়দের নথিপত্র খতিয়ে দেখার সময় এসব অনিয়ম সামনে আসে।
বয়স জালিয়াতি ঠেকাতে এর আগেও উদ্যোগ নিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ২০২০ সালে নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের জন্য ‘অ্যামনেস্টি’ স্কিমের প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিসিআই। সেই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত খেলোয়াড়েরা স্বেচ্ছায় বয়সসংক্রান্ত ভুল বা অসঙ্গতি স্বীকার করে প্রকৃত জন্মতারিখ জানালে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ পেতেন। তবে জালিয়াতি প্রমাণিত হলে নিষেধাজ্ঞার বিধানও রাখা হয়েছিল।
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে বয়স যাচাইয়ের সময় জন্মসনদের পাশাপাশি স্কুল বা কলেজের শিক্ষাজীবনসংক্রান্ত নথিও জমা দিতে হয় ক্রিকেটারদের। এত কড়াকড়ির মধ্যেও বেঙ্গল ক্রিকেটে ৬৪ জনের বয়সে অসঙ্গতি ধরা পড়া তাই ভারতীয় ক্রিকেটে বয়স জালিয়াতি ঠেকানোর প্রক্রিয়াকে আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।