পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশি পেসাররা
খেলা ডেস্ক
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৭
ফাস্ট বোলারদের খনি হিসেবে পাকিস্তানের ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিতি আছে। বর্তমানে শাহিন আফ্রিদি, হারিস রউফরা বিশ্ব মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবুও গত চার বছরের টেস্ট পরিসংখ্যান বলছে, পাকিস্তানের চেয়ে কম উইকেট নিয়েও বোলিং গড় ও স্ট্রাইক রেটে এগিয়ে বাংলাদেশের পেসাররা।
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের পেসাররা ৩৫ টেস্টে নিয়েছেন ২২৪ উইকেট। বোলিং গড় ৩৪.৭৩, স্ট্রাইক রেট ৫৭.৪। একই সময়ে পাকিস্তানের পেসাররা ৩২ টেস্টে নিয়েছেন ২৩৯ উইকেট, তবে তাদের বোলিং গড় ৩৫.৫৩ এবং স্ট্রাইক রেট ৫৯.৩। অর্থাৎ প্রতি উইকেটে রান খরচ এবং উইকেট পেতে প্রয়োজনীয় বলের হিসাবে এগিয়ে বাংলাদেশ।
এই সময়ের হিসাব আরও চমকপ্রদ। পেস বোলিংয়ের বোলিং গড়ে কমপক্ষে ২০ টেস্ট খেলা দলগুলোর মধ্যে পাকিস্তান সবার নিচে। বাংলাদেশের অবস্থান তাদের এক ধাপ ওপরে। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের গড় ২৩.৭৮, অস্ট্রেলিয়ার ২৩.৯১, নিউজিল্যান্ডের ২৭.৪৫, ইংল্যান্ডের ২৭.৫১ এবং ভারতের ২৭.৮৩। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৯.৭২, শ্রীলঙ্কার ৩০.৬৭।
বাংলাদেশের এই উত্থানের গুরুত্ব ক্রিকেট পরিচয়ের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। দীর্ঘদিন টেস্টে বাংলাদেশের প্রধান ভরসা ছিল স্পিন। ঘরের মাঠে স্পিনারদের দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই ছিল চেনা কৌশল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সমীকরণ বদলেছে। পেসারদের ওপর বেড়েছে আস্থা, বেড়েছে বিনিয়োগও।
তার ফল মিলছে পরিসংখ্যানে। তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম, নাহিদ রানা, খালেদ আহমেদদের হাত ধরে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। বিশেষ করে নাহিদ রানার মতো গতিময় পেসারের আগমন আক্রমণে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
শুধু পেস নয়, স্পিনেও বাংলাদেশের দাপট
বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প অবশ্য শুধু পেসারদের ঘিরে নয়। একই সময়ে স্পিনারদের পারফরম্যান্সও দলকে এগিয়ে রেখেছে। ২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশের স্পিনাররা নিয়েছেন ২৫৮ উইকেট, যা এই সময়ে ভারতের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বোলিং গড় ২৮.০৫ এবং স্ট্রাইক রেট ৫৪.১।
অর্থাৎ পেস ও স্পিন, দুই বিভাগেই বাংলাদেশের বোলাররা পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। সব ধরনের বোলার মিলিয়ে বাংলাদেশের বোলিং গড় ২৯.৮৪। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সেটি ৩২.৬৩। তবে পেসারদের অগ্রগতিটাই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে পেস বোলিংয়ের যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সেটাই পেছনে ফেলেছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
এমআই