Advertisement
Us Bangla Airlines
কাউন্টিতে নিজের বোলিংয়ের রহস্য জানালেন হাসান

কাউন্টিতে নিজের বোলিংয়ের রহস্য জানালেন হাসান

খেলা ডেস্ক

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২৯

শুরুতেই জোড়া আঘাত। ম্যাচের প্রথম দুই বলেই দুই উইকেট। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে হাসান মাহমুদের এমন দুর্দান্ত শুরুর পেছনে ছিল ইংলিশ কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগানোর দারুণ কৌশল। শিশিরভেজা পিচে থাকা ছোট ছোট ঘাস আর বলের গ্রিপকে কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই ব্যাটারদের চাপে রেখেছেন বাংলাদেশের এই পেসার।

শিশিরভেজা পিচে ছোট ঘাস থাকলে বল পিচে পড়ে অনেক সময় প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ব্যাটারের কাছে চলে আসে। ক্রিকেটের ভাষায় যাকে বলা হয় স্কিড। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে সেই স্কিডই শুরু থেকে আদায় করে নিয়েছেন হাসান। ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। ম্যাচের প্রথম দুই বলেই তুলে নিয়েছেন দুই উইকেট।

তবে হাসানের বোলিংয়ের রহস্য শুধু স্কিডে আটকে নেই। বলের গ্রিপও এখানে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সাধারণ সিম ডেলিভারির বদলে তিনি ব্যবহার করেছেন ওবল সিম। এতে বল দুই দিকেই সুইং করার সুযোগ তৈরি হয়। ব্যাটারদের মনে তৈরি হয় দ্বিধা। কোন দিকে বলটি বাঁক নেবে, সেটি বুঝতে গিয়ে শট খেলতে সামান্য দেরি করলেই বিপদ।

দ্বিতীয় উইকেটটি ঠিক এই কৌশলেই পেয়েছেন হাসান। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে তাঁর শিকার মোট চার উইকেট। শেষ দুই উইকেট এসেছে লেগ বিফোরের ফাঁদে। সেখানেও কার্যকর ছিল সেই ওবল সিম। তবে ভিন্ন গল্প শুনিয়ে হাসান বলেন, ‘নতুন উইকেটে পরিকল্পনা ছিল লেন্থে জোর দিয়ে বল করা এবং যতটা সম্ভব কম রান দেওয়া।’

পরিসংখ্যানও বলছে, পরিকল্পনা থেকে একচুলও সরেননি হাসান। তাঁর চার উইকেটই এসেছে লেন্থ ডেলিভারি থেকে। পুরো ইনিংসে দলের হয়ে সবচেয়ে কম রানও খরচ করেছেন তিনি। অর্থাৎ কেবল উইকেট নেওয়াতেই নয়, নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েও ছিলেন দলের সেরা।

ইংলিশ কন্ডিশনে ডিউক বল হাতে হাসানের এমন পারফরম্যান্স তাই আলাদা করে নজর কেড়েছে। কেন্টের হয়ে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর বোলিং করা এই পেসারকে দলের অন্যতম সেরা বোলার বললে এখন আর বাড়িয়ে বলা হয় না।

হাসানের আনন্দ অবশ্য শুধু নিজের পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ নয়। কেন্টে সতীর্থ হিসেবে আরেক বাংলাদেশি খালেদ আহমেদকে পাওয়াটাও তাঁকে খুশি করেছে। নিজের প্রথম ম্যাচেই তিন উইকেট নিয়ে খালেদও রেখেছেন দারুণ ছাপ।

‘বোলিংয়ে সঙ্গী হিসেবে খালেদকে সঙ্গে পাওয়ায় অবশ্যই ভালো লেগেছে। ওর জন্য আমি খুবই খুশি। কেন্টের হয়ে নিজের প্রথম ম্যাচেই তিনটি উইকেট নিয়েছে। আশা করি, পরের ইনিংসেও ওর ভালো যাবে।’

একসঙ্গে দুই বাংলাদেশির কাউন্টি ক্রিকেটে খেলা যে দেশের সমর্থকদেরও বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে, সেটিও বুঝতে পারছেন হাসান। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনার পর কেন্টে দুই বাংলাদেশির উপস্থিতিকে আরও বিশেষ মনে করছেন তিনি।

‘দুজন কেন্টের হয়ে খেলছে, এতে বাংলাদেশের মানুষও খুব খুশি। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় যা ঘটেছে, তারপর এ বিষয়টি আমাদের জন্য আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে।’