Advertisement
Us Bangla Airlines
শচীনের সঙ্গে ১৮ বছরের সম্পর্কে ইতি টানছে মুম্বাই!

শচীনের সঙ্গে ১৮ বছরের সম্পর্কে ইতি টানছে মুম্বাই!

খেলা ডেস্ক

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩৫

আইপিএলে টানা ব্যর্থতার পর দলকে নতুন করে সাজাতে ব্যস্ত মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কোচ থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ, সবখানেই পরিবর্তনের হাওয়া। এবার সেই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে শচীন টেন্ডুলকারের দায়িত্বেও। সবকিছু ঠিক থাকলে মুম্বাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছরের সম্পর্কের ইতি টানতে পারেন ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি।

মাহেলা জয়াবর্ধনেকে সরিয়ে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কাইরন পোলার্ডকে। ২০১০ সাল থেকে মুম্বাইয়ের হয়ে আইপিএল খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই অলরাউন্ডার। গত চার বছর দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দলের পরিবেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় পোলার্ডের ওপর আস্থা রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

দলের পারফরম্যান্স উন্নত করতে পারফরম্যান্স পরিচালক হিসেবে আনা হয়েছে জুবিন ভারুচাকে। ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এদিকে নতুন পেস বোলিং কোচ হিসেবে স্টেফানোস জোন্সের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনিও এর আগে রাজস্থানের সঙ্গে কাজ করেছেন।

নেতৃত্বেও পরিবর্তনের গুঞ্জন চলছে। গত মৌসুমের ব্যর্থতার পর হার্দিক পান্ডিয়ার অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার রোহিত শর্মাকে নেতৃত্বে ফেরানোর সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

এমন পরিস্থিতিতে শচীনের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসর থেকেই মুম্বাইয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। শুরুতে খেলোয়াড় হিসেবে দলটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৩ সালে মুম্বাইয়ের শিরোপা জয়ের পর অবসর নেন শচীন। পরের বছর তাঁকে দলের আইকন হিসেবে দায়িত্ব দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

এরপর থেকে দলের পরামর্শক হিসেবে যুক্ত ছিলেন শচীন। তবে তাঁর দায়িত্ব ছিল অনেকটাই ঐচ্ছিক। মুম্বাইয়ের সব ম্যাচে উপস্থিত থাকতেন না তিনি; প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফকে পরামর্শ দিতেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই বছরে দলের কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকার গুরুত্বও কিছুটা কমেছে।

পোলার্ড প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর শচীনকে আর আগের ভূমিকায় দেখা যাবে কি না, তা নিয়েই এখন আলোচনা। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ছেলে অর্জুন টেন্ডুলকারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে শচীনকে বার্তা দিতে চেয়েছিল মুম্বাই কর্তৃপক্ষ। তবে এ বিষয়ে কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।

সব মিলিয়ে আগামী মৌসুমের আগে শচীন নিজেই আইকনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে শচীন কিংবা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে আইপিএলে মুম্বাইয়ের সঙ্গে শচীনের ১৮ বছরের সম্পর্কের অবসান ঘটতে পারে।