Advertisement
Us Bangla Airlines
৯ রান করতে ৮ উইকেট হারানো মিরাজদের শোচনীয় পরাজয়

৯ রান করতে ৮ উইকেট হারানো মিরাজদের শোচনীয় পরাজয়

খেলা ডেস্ক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩

ম্যাচটি গায়ানার নিয়ন্ত্রণেই ছিল। ৭ ওভার শেষে স্কোর ১ উইকেটে ৪০। হাতে ছিল ১৩ ওভার, উইকেটও ছিল ৯টি। সেখান থেকে কীভাবে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। এই ৯ রান তুলতেই গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স হারিয়েছে ৮ উইকেট। পাকিস্তানের দুই রিস্ট স্পিনার শাদাব খান ও সুফিয়ান মকিমের ঘূর্ণিতে মুহূর্তেই ধসে পড়ে তাদের ইনিংস।

মাত্র এক উইকেটে ৪০ থেকে গায়ানার স্কোর হয়ে যায় ৯ উইকেটে ৪৯। শেষ পর্যন্ত ৭৬ রানে অলআউট হয়ে প্রথম কোয়ালিফায়ারে পরাজয় বরণ করে সিপিএলের প্রাথমিক পর্বের সেরা দলটি।

গায়ানার এই বিপর্যয়ের রাতটি মেহেদী হাসান মিরাজের জন্যও ছিল হতাশার। ব্যাট হাতে প্রথম বলেই ফিরে যান বাংলাদেশের অলরাউন্ডার। বল হাতে ১.২ ওভারে ১০ রান দিয়ে থাকেন উইকেটশূন্য। আগের তিন ম্যাচে ৯ উইকেট নেওয়া মিরাজ এবার দলের ধস ঠেকাতে পারেননি।

ব্রিজটাউনে শুরুটা অবশ্য এমন ছিল না। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম চার ওভারে কোনো উইকেট হারায়নি গায়ানা। গ্লেন ফিলিপস ও মাভেন্ড্রা ডিন্ডিয়াল মিলে যোগ করেন ২৬ রান। ডিন্ডিয়ালকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন জশুয়া জেমস।

এরপর ফিলিপস ও শেই হোপ মিলে ইনিংস গড়ছিলেন। সাত ওভার শেষে ৪০ রান উঠে যাওয়ায় গায়ানার সামনে ছিল বড় সংগ্রহের সুযোগ। কিন্তু অষ্টম ওভার থেকেই শুরু হয় পতন। আক্রমণে এসেই প্রথম বলে ফিলিপসকে ফেরান সুফিয়ান মকিম। একই ওভারে মোহাম্মাদ হারিসকেও ফিরিয়ে দেন তিনি।

এরপর বল হাতে যেন একাই গায়ানাকে ধ্বংস করে দেন শাদাব। হেটমায়ারকে লং অনে ক্যাচ বানিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন শাদাব। পরের বলে গুগলিতে এলবিডব্লিউ করেন মেহেদী হাসান মিরাজকে। হ্যাটট্রিক বলেও একই ধরনের ঘূর্ণি, তাতে কুয়েন্টিন স্যামসন বোল্ড। পূর্ণ হয় শাদাবের হ্যাটট্রিক।

এরপরও থামেনি গায়ানার বিপর্যয়। মকিম আবার জোড়া আঘাত করেন, যার মধ্যে ছিল একপ্রান্ত আগলে রাখা হোপের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পরের ওভারে ইমরান তাহিরকে বোল্ড করে চার উইকেট পূর্ণ করেন শাদাব। মাত্র ২০ বলের ব্যবধানে গায়ানা হারায় ৮ উইকেট। এই সময়ে রান এসেছে মাত্র ৯। অর্থাৎ ৪০ থেকে ৪৯, আর সেখানেই কার্যত শেষ হয়ে যায় তাদের ম্যাচ।

শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ডের ১৪ রান এবং শেষ উইকেট জুটির ২৭ রান গায়ানাকে কোনো রকমে ৭৬ পর্যন্ত টেনে নেয়। তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি অ্যান্টিগার হাতে।

জয়ের জন্য ৭৭ রানের লক্ষ্য পেয়ে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্সের ব্যাটাররা কোনো সুযোগই দেননি গায়ানার বোলারদের। রাকিম কর্নওয়াল মাত্র ১৬ বলে ৪৯ রানের ঝড় তোলেন, যেখানে ছিল ছয়টি ছক্কা। এভিন লুইস ১৩ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। মাত্র ৫.২ ওভারেই ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে অ্যান্টিগা।

এমআই