Advertisement
Us Bangla Airlines
এনসিএলে সুবিধা বেড়েছে, খেলোয়াড় মিলবে কবে?

এনসিএলে সুবিধা বেড়েছে, খেলোয়াড় মিলবে কবে?

খেলা ডেস্ক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০৫

জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে বড় পরিবর্তন এনেছে বিসিবি। মাসিক বেতন বেড়েছে, কয়েকগুণ হয়েছে ম্যাচ ফি। যাতায়াত ও আবাসন সুবিধা হয়েছে উন্নত। ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে নেওয়া হচ্ছে নতুন পরিকল্পনা। তাতে দাঁড়িয়েছে প্রশ্ন, এত সুবিধার পর মানসম্পন্ন খেলোয়াড় মিলবে কবে?

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধির ইতিহাস দেখলেও পরিবর্তনের চিত্রটি স্পষ্ট। ২০১২ সালে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে মাসিক বেতন ছিল যথাক্রমে ২৫, ২০ ও ১৫ হাজার টাকা। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ২৮, ২২ ও ১৭ হাজার টাকা। এরপর ছয় বছর বেতন বাড়েনি। ২০২৩ সালে সেটা ৩৫, ৩০ ও ২৫ হাজার টাকা হয়েছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ বেতন ৫০ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাপনের বোর্ড। অন্য দুই ক্যাটাগরির বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনাও ছিল। পরে তামিম ইকবাল বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয় বোর্ড সভায় সেটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়।

শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবিত অঙ্কের চেয়েও বেতন বেশি বাড়ানো হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৫০ হাজার এবং ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন বেতন কার্যকর ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে।

ম্যাচ ফিতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০১২ সালে চার দিনের ম্যাচে ক্রিকেটাররা পেতেন ২০ হাজার টাকা। কয়েক দফায় বেড়ে সর্বশেষ ম্যাচ ফি ছিল ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু বিপিএল না হওয়ায় সবশেষ বোর্ড সভায় তা বাড়িয়ে করা হয়েছে দেড় লাখ টাকা। ভারতের পর বিশ্বের দ্বিতীয় দল হিসেবে এত টাকা ম্যাচ ফি পাচ্ছে কোনো দেশের ক্রিকেটাররা।

সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু অর্থের দিকেই নজর দেওয়া হয়নি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াতে উড়োজাহাজ ও এসি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ম্যাচ ভেন্যুর ভালো মানের হোটেলে আবাসনের সুবিধাও পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। অথচ এককালে লোকাল বাস আর নিম্নমানের আবাসন ব্যবস্থা ছিল।

এনসিএলের আট দলকে আলাদা পরিচয় দিতে এবার প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে দলভিত্তিক ব্যাগি ক্যাপ। প্রতিটি দলের জন্য কাস্টমাইজড হেলমেট দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বিদেশে তৈরি এসব হেলমেট হবে ভারতের শ্রেয় ব্র্যান্ডের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন তারকা এই ব্র্যান্ডের হেলমেট ব্যবহার করেন।

টুর্নামেন্টকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতি ফেরানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। মূল দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে দ্বিতীয় একাদশ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতসব পরিবর্তনের পর এখন আলোচনায় আসছে খেলোয়াড়ের সংখ্যার বিষয়টি।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের জন্য প্রতিটি দলে প্রয়োজন পর্যাপ্তসংখ্যক মানসম্পন্ন ক্রিকেটার। শুধু সুযোগ-সুবিধা বাড়ালেই হবে না, সেই সুবিধা পাওয়ার মতো খেলোয়াড়ের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। কিন্তু সেই সংখ্যা কবে বাড়বে, কবে মিলবে মানসম্মত ক্রিকেটার, এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

এমআই