Advertisement
Us Bangla Airlines
ব্যাটিং ভালো করতে আশরাফুলের নতুন কৌশল

ব্যাটিং ভালো করতে আশরাফুলের নতুন কৌশল

খেলা ডেস্ক

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪২

পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করতে না পারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের পুরোনো ব্যাধি। যখন রানের গতি বাড়ানো দরকার, তখন ব্যাটিং হয়ে যায় মন্থর। আবার কঠিন উইকেটে টিকে থাকার প্রয়োজন হলে অপ্রয়োজনীয় বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারান ব্যাটাররা। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু এই সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

লাল বলের ক্রিকেটে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুটা পরিবর্তনের ছাপ দেখা গেলেও ধারাবাহিকতা এখনো বড় প্রশ্ন। সাদা বলের ক্রিকেটে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে, পুরোনো সমস্যাই রয়ে গেছে। পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের গতি ও ধরন বদলাতে না পারাটাই যেন সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

এশিয়ান গেমসের আগে সেই জায়গাতেই জোর দিয়েছেন আশরাফুল। ব্যাটারদের সামনে পরিষ্কার করে দিয়েছেন দুই ধরনের পরিস্থিতির পরিকল্পনা। ভালো উইকেট পেলে কীভাবে ইনিংসকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে ২০০ পেরোনো যায়, আবার বোলিং সহায়ক বা কঠিন উইকেটে কখন ঝুঁকি কমিয়ে উইকেটে টিকে থাকতে হয়, সেই হিসাবেই চলছে প্রস্তুতি।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রায় ১০ দিন ধরে চলছে জাতীয় দলের অনুশীলন। সামনে দুটি ভিন্ন অভিযান বলে প্রস্তুতিও চলছে আলাদা পরিকল্পনায়। লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তদের নিয়ে চলছে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি। অন্যদিকে মুশফিকুর রহিম, মমিনুল হকরা ব্যস্ত আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রস্তুতিতে।

জাপানে আগে কখনো না খেলার কারণে সেখানকার উইকেট ও কন্ডিশন সম্পর্কে সরাসরি কোনো অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশের। তাই মেয়েদের ক্রিকেটকে সামনে রেখে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন আশরাফুল ও তাঁর ব্যাটাররা। টেলিভিশনে মেয়েদের ম্যাচ দেখে উইকেটের চরিত্র বোঝার চেষ্টা করেছে দল।

আশরাফুলের চোখে এখন পর্যন্ত পাওয়া ছবিটা আশাব্যঞ্জক। মেয়েদের ম্যাচে বেশ কিছু হাই-স্কোরিং ইনিংস হয়েছে, ব্যাটে বলও এসেছে ভালোভাবে। আউটফিল্ডও ছিল সন্তোষজনক। ছেলেদের মাঠ অবশ্য কিছুটা বড় হতে পারে।

আশরাফুল বলেন, ‘জাপানে আমরা মেয়েদের খেলাগুলো দেখলাম, সেখানে হাই স্কোরিং ম্যাচ হচ্ছে। উইকেটটা সুন্দর ব্যাটে বল আসছে। ভালো উইকেট হলে কীভাবে আমরা ২০০–এর বেশি করতে পারি এবং যদি খারাপ উইকেটও হয়, সেখানে কীভাবে ১৪০-১৬০ করে ম্যাচ জেতা যায়, ওসব পরিকল্পনা করেই আমরা কিছুদিন ধরে অনুশীলন করেছি।’  

এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে আরেক পরীক্ষা। গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। টেস্ট স্কোয়াডে থাকা, কিন্তু এশিয়ান গেমসের দলে না থাকা ক্রিকেটাররা ইতোমধ্যে শুরু করেছেন লাল বলের প্রস্তুতি।

টেস্টের ভেন্যু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে আফগানিস্তানের স্পিন শক্তির কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করা হয়েছে। একাডেমি মাঠে লাল বলের অনুশীলনে ব্যবহার করা হয়েছে স্পিন বোলিং মেশিনও। সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাটারদের দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকার অভ্যাস করানো হচ্ছে।

ব্যাটিং কোচ বলেন, বুধবার থেকে আমরা টেস্ট দলের স্কিল অনুশীলন শুরু করেছি। আরও পাঁচ দিন করব। সেই জায়গায় সবগুলো অপশনই রাখার চেষ্টা করছি, যেহেতু আফগানিস্তানের সঙ্গে হয়তো তারা স্পিন উইকেটও রাখতে পারে। আমরা সেই ধরনের অনুশীলনগুলোও করছি।’

‘ব্যাটসম্যানরা যেন লম্বা সময় ব্যাটিং করতে পারে এবং বোলাররাও যেন লম্বা স্পেল বল করতে পারে, সেই অনুশীলনটা আমরা করেছি। কালকেও হয়তো আমাদের একই পরিকল্পনা থাকবে। (সংযুক্ত আরব আমিরাতে) যাওয়ার আগে লম্বা স্পেল বোলিং এবং লম্বা সময় ব্যাটিং করার অনুশীলনটাই আমরা করব’—যোগ করেন আশরাফুল।

এমআই