Advertisement
Us Bangla Airlines
পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে ‘অজুহাতের ভাণ্ডার’ খুললেন লিটন

পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে ‘অজুহাতের ভাণ্ডার’ খুললেন লিটন

খেলা ডেস্ক

০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫

পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে এশিয়ান গেমসের ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের। মাঠের এই ব্যর্থতার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে দলীয় পরিকল্পনা, বোলিং পরিবর্তন আর ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে। তবে ম্যাচ শেষে লিটন দাসের কথায় ব্যর্থতার কারণ হিসেবে একের পর এক প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। কখনো মোস্তাফিজের বোলিং, কখনো কন্ডিশন, আবার কখনো দীর্ঘদিন অনুশীলনের বাইরে থাকার কথা। অধিনায়কের বক্তব্য এমন যে তিনি ‘অজুহাতের ভাণ্ডার’ খুলে বসেছেন।

নাগোয়ার বৃষ্টিতে ম্যাচের আগে চার দিন উইকেট ঢাকা ছিল। উইকেটে ফাটল থাকায় দুই দলই স্পিননির্ভর একাদশ সাজায়। এমন উইকেটে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে করানো হয় দুই ওভার। প্রথম ওভারেই ১৮ রান দেওয়ার পরও কেন তাকে আবার বোলিংয়ে আনা হলো, স্পিনারদের কেন ব্যবহার করা হলো না, মিক্সড জোনে এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন লিটন। অধিনায়ক সেখানে ঔদ্ধত্যপূর্ণ জবাব দিয়ে বলেন, ‘আজকে মোস্তাফিজ ৩ উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না।’

অথচ পাকিস্তান ১৩ ওভারের মধ্যে পেসার দিয়ে বোলিং করিয়েছে মাত্র তিন ওভার। বিপরীতে বাংলাদেশের হাতে থাকা সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক সৈকতের মতো স্পিনাররা বলই পাননি। এ নিয়েও প্রশ্ন করা হলে লিটনের উত্তর, ‘আমার কাছে বেস্ট অপশন মোস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনও মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।’

মোস্তাফিজের দুই ওভারে এসেছে ৪১ রান। নাসুম তিন ওভারে দিয়েছেন ৩৩ রান। পাঁচ ওভারে ৭৪ রান খরচই ম্যাচের গতিপথে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। দলের অন্যতম সেরা বোলারের এমন পারফরম্যান্সের পরও লিটনের ব্যাখ্যায় উঠে আসে কন্ডিশনের প্রসঙ্গ।

‘দেখেন, ও আমাদের টিমের বেস্ট বোলার অনেক বছর ধরে। তো ক্রিকেটে এই জিনিসটাই, যে আপনি কখনও একই ওয়েতে যেতে পারবেন না, উত্থান-পতন থাকবে। আমার কাছে মনে হয় তার জন্য আজকের দিনটা ভালো ছিল না।’

শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিং ব্যর্থতার ব্যাখ্যাতেও কারণ দেখিয়েছেন অধিনায়ক নিজেই। তিন বল খেলে ২ রান করে আউট হওয়া লিটনের মতে, দীর্ঘদিন অনুশীলনের বাইরে থাকার পর সরাসরি মাঠে নেমে অসাধারণ ইনিংস খেলা সহজ নয়। 

লিটন বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে রুমে বসা, পাশাপাশি আমরা টসে হেরে গেছি। তো আমাদের হাতে তো কোনো উপায় ছিল না, উইকেটটাও একটু কঠিন ছিল। যদি ভালো খেলতে পারতাম ভালো হতো, কিন্তু এটা খুবই সহজ না যে আপনি এতদিন বসে থাকবেন এবং মাঠে নেমে দুর্দান্ত ইনিংস খেলবেন।’

তবে এখানেই লিটনের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নের জায়গা তৈরি হয়েছে। কারণ বৃষ্টির কারণে পাকিস্তানও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পায়নি। তারপরও তাদের ব্যাটিং ছিল সাবলীল, যেখানে বাংলাদেশের ব্যাটাররা শুরু থেকেই ধুঁকেছেন। আরও একটি বিষয় হলো, বাংলাদেশের কোচ ম্যাচের দুদিন আগেই জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফেরার পরিস্থিতির জন্য দল প্রস্তুত। গতকাল ইয়াসির আলী রাব্বিও অনুশীলনের ঘাটতিকে সামনে আনেননি। অথচ সেমিফাইনালে হেরে লিটন সেই অনুশীলনকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।