Advertisement
Us Bangla Airlines
এত রান আগে কখনো খরচ করেছেন মোস্তাফিজ?

এত রান আগে কখনো খরচ করেছেন মোস্তাফিজ?

খেলা ডেস্ক

০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১১

মোস্তাফিজুর রহমানের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এমন দিন আগে আসেনি। বাংলাদেশের জার্সিতে এক যুগের কাছাকাছি সময় ধরে খেললেও দুই ওভারে কখনো ৪১ রান খরচ করেননি বাঁহাতি এই পেসার। পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে এসে সেই বিব্রতকর রেকর্ডই গড়লেন তিনি। মাত্র ১২ বলে ব্যয় রান ৪১, ইকোনমি রেট ২০.৫!

বিধ্বস্ত বোলিং এসেছে এমন এক উইকেটে, যেখানে গতি নয়, বৈচিত্র্যই ছিল বড় অস্ত্র। জাপানের নিশিনের পিচকে অনেকেই মিরপুরের সঙ্গে তুলনা করেন। অসমান বাউন্স, বলের ধীরগতি আর অনিয়ন্ত্রিত বাঁক এই উইকেটকে স্পিনারদের জন্য কার্যকর করে তুলেছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশের রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদীরা সেটা প্রমাণও করেছেন।

মোস্তাফিজের কাছেও তো অস্ত্রের অভাব ছিল না। কাটার আর স্লোয়ারে বছরের পর বছর ব্যাটারদের ভুগিয়েছেন তিনি। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই অস্ত্রের দেখা মিলল খুব কমই। বরং বাউন্ডারি খাওয়ার পরও স্লোয়ার না করে বলের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। শেষ দিকে স্লোয়ারের বদলে হাফভলি, ফলাফল প্রতিপক্ষের ব্যাটে চার-ছক্কার ফুলঝুরি।

এর আগে টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে মোস্তাফিজের সর্বোচ্চ ইকোনমি ছিল ১৩.৫। ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ওভারে ২৭ রান খরচ করেছিলেন তিনি। একই দলের বিপক্ষে ২০১৮ ও ২০২২ সালে চার ওভারে ৫০ রান দিয়েছিলেন, ইকোনমি ছিল ১২.৫। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ওভারে ৪১ রান দিয়ে এবার সেই সব সংখ্যাকেই ছাড়িয়ে গেলেন তিনি।

এই ৪১ রানই বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠেছে বড় ধাক্কা। পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য ছিল ১১২ রান। ১৩ ওভারে এই রান করতে হলে ওভারপ্রতি ৮.৬২ রান প্রয়োজন ছিল তাদের। অর্থাৎ চাপটা ছিল পাকিস্তানের ওপরই। শুরুতে বাংলাদেশের স্পিনাররা সেই চাপটা ধরে রেখেছিলেন। রিশাদ, মাহেদী ও শরিফুল ইসলাম মিলে ৬.৩ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৩৭ রান। 

কিন্তু মোস্তাফিজ ও নাসুম আহমেদের বোলিংয়ে বদলে যায় পুরো চিত্র। এই দুজন মিলে পাঁচ ওভারে দিয়েছেন ৭৪ রান। তার মধ্যে মোস্তাফিজ একাই দুই ওভারে ৪১। বাংলাদেশের বাকি বোলাররা যেখানে রান আটকে রেখেছেন, সেখানে এই দুই বাঁহাতি বোলারের ওভারেই পাকিস্তান ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

হৃদয়ের ২৫ বলে ৪২ রানের ইনিংসে ১১১ পর্যন্ত পৌঁছেছিল বাংলাদেশ। ছোট লক্ষ্য হলেও স্পিনবান্ধব উইকেটে সেটি একেবারে অসম্ভব ছিল না। দরকার ছিল শুরু থেকেই রান আটকে রাখা। সেই কাজটাই করতে পারেননি মোস্তাফিজ। আস্থা ও ভরসার বদলে মোস্তাফিজ হতাশার মাত্রাটাই কেবল বাড়িয়েছেন।

এমআই