ব্লেজার-ক্যাপের নতুন এনসিএলের প্রথমদিন কেমন গেল
খেলা ডেস্ক
০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৯
মাঠে নামার আগেই বদলে গেছে জাতীয় ক্রিকেট লিগের চেহারা। অধিনায়কদের গায়ে ব্লেজার, মাথায় আলাদা ক্যাপ, নতুন হেলমেটে রঙের ভিন্নতা, টসের মঞ্চে নতুন আবহ। চার ভেন্যুতে একসঙ্গে শুরু হওয়া এবারের এনসিএলের প্রথম দিন তাই ক্রিকেটের চেয়ে নতুনত্বের রঙেই বেশি চোখে পড়ল।
খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তার বিপরীতে টস করতে দাঁড়িয়েছিলেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ মিঠুন। মিঠুনের মুখের চওড়া হাসিই বলে দিচ্ছিল, নতুন এই আয়োজনের আনন্দে তিনিও কম যাননি। চার ম্যাচে আট অধিনায়কই প্রথমবারের মতো ব্লেজার পরে টস করতে নামলেন।
শুধু পোশাকেই পরিবর্তন নয়, এবারের জাতীয় লিগে এসেছে আরও কিছু নতুন সংযোজন। অধিনায়কদের জন্য আলাদা ক্যাপ, হেলমেটসহ নানা আয়োজন ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে দিয়েছে নতুন আবহ। সঙ্গে বেড়েছে ক্রিকেটারদের আর্থিক প্রাপ্তিও।
এক বছরের ব্যবধানে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বেড়েছে ক্রিকেটারদের বেতনও। তবে সুযোগ-সুবিধা বাড়ার সঙ্গে পারফরম্যান্সের চাপও যে বাড়ছে, সেটিও স্পষ্ট। কারণ আগামী ৭ অক্টোবর প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় লিগের সেকেন্ড ইলেভেন’। মূল দলে ব্যর্থ হলে সেখানে নেমে যেতে হতে পারে ক্রিকেটারদের।
অন্যদিকে জাতীয় লিগের পাশাপাশি চলবে তিন দিনের ম্যাচের এই টুর্নামেন্ট। সেখানে ভালো করলে আবার মূল প্রথম শ্রেণির দলে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগও থাকবে। ফলে সামনে যেমন সুযোগ, তেমনি চ্যালেঞ্জও কম নয়।
তবে মাঠের ক্রিকেটে প্রথম দিনটা খুব একটা জমজমাট ছিল না। সংযুক্ত আরব আমিরাতে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে চার ম্যাচের কোথাও দেখা যায়নি সেঞ্চুরি। কোনো বোলারও পাননি পাঁচ উইকেট। এমনকি কোনো দলকে অলআউটও করা যায়নি।
মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকার বিপক্ষে খেলতে নেমে কিছুটা চাপে ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর। চোট ও জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণে দলের বেশির ভাগ নিয়মিত ক্রিকেটারই ছিলেন না। দুই ওপেনার অনিক সরকার ও মিম মোসাদ্দেক ফিফটি করলেও প্রথম দিন শেষে রংপুরের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৯ রান।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে রাজশাহীর শুরুটা ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। চট্টগ্রামের বিপক্ষে দুই ওপেনারই ফিফটি পেয়েছেন। ১১৪ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ার পর হাবিবুর রহমান আউট হন ৭৫ রানে। অন্য ওপেনার সাব্বির হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ৭১ রান। দিন শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৮৯।
খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছে খুলনা। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে দারুণ ব্যাটিং করেছেন গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলা কালাম সিদ্দিকী। দুজনই সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও তা ছুঁতে পারেননি। কালাম ৯২ এবং মিঠুন ৮৯ রান করে ফেরেন। প্রথম দিন শেষে খুলনার সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩২৮।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহের দিনটা তুলনামূলক কঠিন গেছে। ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম ছাড়া আর কেউ ফিফটির দেখা পাননি। শেষ বিকেলে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকা আবু হায়দারের ব্যাটেই অলআউট হওয়া থেকে বেঁচেছে দলটি। সিলেটের বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে ময়মনসিংহের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৭৩।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার তো বটেই, তাদের আশপাশের নিয়মিত বোলারদের অনেকেই এবার জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ডে নেই। ফলে প্রথম দিনে বড় ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দেখা মেলেনি। ব্যাটসম্যানদের জন্য দিনটি তাই কিছুটা হতাশার।
তবে ক্রিকেটের ফলাফলের বাইরে এবারের জাতীয় লিগের প্রথম দিনটি আলাদা হয়ে থাকল তার নতুন সাজে। ব্লেজার, ক্যাপ, বাড়তি সুযোগ-সুবিধা আর পারফরম্যান্সের নতুন চাপ, সব মিলিয়ে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেন নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হলো।