Advertisement
Us Bangla Airlines
নাহিদের যত্নে কাদের অনুসরণ করতে বললেন ইয়ান বিশপ

নাহিদের যত্নে কাদের অনুসরণ করতে বললেন ইয়ান বিশপ

খেলা ডেস্ক

২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২৫

১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল ছোড়ার সামর্থ্য, সঙ্গে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বাড়তি আতঙ্ক। নাহিদ রানার মতো পেসার বাংলাদেশের বড় সম্পদ। তবে চোটের কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই গতিতারকাকে নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়েছেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ। নাহিদকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ অনুসরণের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের হয়ে কয়েকটি সিরিজে খেলতে পারেননি নাহিদ। চলমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও নেই এই পেসার। তার অনুপস্থিতি যেমন দলের জন্য ধাক্কা, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য তাকে সুস্থ ও কার্যকরভাবে ফিরিয়ে আনাও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশপের মতে, নাহিদের মতো গতিময় বোলারকে দীর্ঘ সময় সেরাটা দেওয়ার উপযোগী করে তুলতে প্রয়োজন ধৈর্য, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা ও পরিকল্পিত পরিচর্যা।

নাহিদকে নিয়ে বিসিবিকে সতর্ক করে বিশপ বলেন, ‘নাহিদ রানাকেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহায়তায় সেভাবে আগলে রাখতে হবে। সময়ের সঙ্গে যেন তার শরীর পেস বোলিংয়ের এই কঠিন চাপ সহ্য করার মতো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সংক্ষেপে এটাই বলতে চাই, তাকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করা যাবে না। তাৎক্ষণিক সাফল্যের লোভে পড়ে “সোনার ডিম পাড়া হাঁসটিকে যেন মেরে ফেলা না হয়”।’

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের ওপরও আস্থা রয়েছে বিশপের। তিনি বলেন, ‘আমি জানি বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে ফিল সিমন্সের মতো একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কোচ আছেন। সে আমার বড় ভাইয়ের মতো, অত্যন্ত চমৎকার একজন কোচ। তিনি বিষয়টি খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করবেন, কারণ পেস বোলিং খুবই ধকলের একটি কাজ। ইনজুরির প্রবণতা কারও কারও শরীরে অন্যদের চেয়ে কিছুটা বেশিই থাকে, নিজের ক্যারিয়ারের একের পর এক স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের অভিজ্ঞতা থেকে আমি তা ভালোভাবেই জানি।’

নাহিদের দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস নিশ্চিত করতে ফিটনেস ও কন্ডিশনিং কোচদের পাশাপাশি মেডিকেল টিমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশপ। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ টেনেছেন বিশপ। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো পেসারদের দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কার্যকর রাখার পেছনে অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেল ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন তিনি। স্কট বোল্যান্ডের কথাও উল্লেখ করেন এই ধারাভাষ্যকার।

বিশপ বলেন, ‘তাই দলের ফিটনেস ও কন্ডিশনিং ট্রেনারদের খুব সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা যথাযথ স্ট্রেন্থ ওয়ার্কের মাধ্যমে নাহিদ রানার প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করে দিতে পারেন। মেডিকেল টিমের ভূমিকাও এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ। যেমনটা অস্ট্রেলিয়া করেছে, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড তাদের মেডিকেল ব্যবস্থার মাধ্যমে মিচেল স্টার্ক, ইনজুরি-পরবর্তী প্যাট কামিন্স কিংবা জশ হ্যাজলউডদের চমৎকারভাবে সামলেছে। যার ফলে ৩৩, ৩৫, ৩৬ এমনকি ৩৭ বছর বয়সেও তারা এখনো দুর্দান্ত বোলিং করে যাচ্ছেন। এমনকি স্কট বোল্যান্ডও।’

নাহিদের গতি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম বড় শক্তি। তবে সেই শক্তিকে দীর্ঘদিন কাজে লাগাতে হলে তাৎক্ষণিক ফলের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বিশপের বার্তাও স্পষ্ট, সঠিক পরিচর্যা ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় নাহিদকে আগলে রাখতে পারলেই ভবিষ্যতে তার কাছ থেকে সর্বোচ্চটা পাওয়া সম্ভব।