আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বারবার বঞ্চিত বাংলাদেশ!
খেলা ডেস্ক
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:১৫
মিরপুরে উইকেটের জন্য মরিয়া বাংলাদেশ। কিন্তু বোলারদের চেষ্টার সঙ্গে যেন তাল মেলাতে পারছেন না আম্পায়াররা। মিরাজ, তাইজুল কিংবা নাঈম হাসান, সবাই সুযোগ তৈরি করছেন। ব্যাটারদের বিপাকে ফেলছেন, আবেদনও করছেন জোরালোভাবে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মিলছে না আম্পায়ারের সাড়া। রিভিউ নিয়েও ভাগ্য খুলছে না স্বাগতিকদের। দুই দলের লড়াইয়ে তাই আম্পায়ার্স কলও হয়ে উঠছে বাংলাদেশের জন্য বড় হতাশার নাম।
ক্যারিবীয় বোলারদের মতো ধার ও নির্ভুলতায় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারছেন না বাংলাদেশের স্পিনাররা। বাড়তি টার্ন কিংবা বাউন্সের অভাবও চোখে পড়ছে। তারপরও যতটুকু সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সেখানেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ফল। মিরাজের বলে একাধিকবার জোরালো আবেদন করেও সাড়া পাননি বাংলাদেশি ফিল্ডাররা। একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন নাঈমও। দুই বোলারের বলেই রিভিউ নিয়েও শেষ পর্যন্ত উইকেটের দেখা মেলেনি।
বাংলাদেশের নেওয়া দুটি রিভিউই আম্পায়ার্স কলে বাতিল হয়েছে। বৃষ্টির বিরতি শেষে তাইজুলের বোলিংয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। রিভিউতে দেখা গেল সেই আম্পায়ার্স কলের ফাঁদ। উইকেটের জন্য একের পর এক চেষ্টা চালিয়েও সাফল্য আসছে না। এমন পরিস্থিতিতে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তও যখন বিপক্ষে যাচ্ছে, তখন স্বাগতিকদের হতাশা বাড়াটাই স্বাভাবিক। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কার সঙ্গে যোগ হচ্ছে দুর্ভাগ্যের অনুভূতিও।
তবে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার সবচেয়ে বড় কারণ নিঃসন্দেহে ব্যাটিং ব্যর্থতা। প্রথম ইনিংসে ৫৯ রানের মধ্যে শেষ সাতটি উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ নষ্ট করে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫৩ রানে হারিয়েছে প্রথম ৬ উইকেট। হৃদয় ও তামিমের আউটের ধরন ছিল হতাশাজনক। অভিজ্ঞ শান্ত ও লিটনও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেননি। উল্টো ক্যারিবীয় স্পিনারদের সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন।
শেষ পর্যন্ত নাঈম হাসানের ক্যারিয়ারসেরা ফিফটি বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেয়। কিন্তু সেই পুঁজি কাজে লাগাতে বোলারদের কাছ থেকে প্রয়োজন ছিল দ্রুত উইকেট। এখন পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি তারা। মিরপুরের কঠিন উইকেটে বরং বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর সঙ্গে আম্পায়ার্স কলের সিদ্ধান্তগুলোও বাংলাদেশের জন্য বাড়তি হতাশা তৈরি করছে।
এমআই