সাইফের ৭১ রানের ইনিংস, শেষ বলে নাটকীয় পরিণতি
খেলা ডেস্ক
০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৫৭
শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৩ রান। প্রথম পাঁচ বল শেষে সমীকরণ নামিয়ে আনলেন ৩ রানে। ক্রিজে তখন ৭১ রানে অপরাজিত সাইফ হাসান। দলকে জেতানোর দারুণ সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু শেষ হাসি হাসতে পারলেন না বাংলাদেশের এই ব্যাটার। আন্দ্রে রাসেলের শেষ বলটি মিডউইকেটে তুলে দিয়ে ফিরলেন সাজঘরে। তাতেই ২ রানের নাটকীয় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো জনকপুর বোল্টসকে।
নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) বিরাটনগর কিংসের বিপক্ষে ব্যাট হাতে একাই লড়েছেন সাইফ। শুরুতে ৩০ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জনকপুর। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার। তিন নম্বরে নেমে বাউন্ডারি দিয়ে ইনিংস শুরু করলেও উইকেটের আচরণ বুঝে শুরুতে বড় শটের বদলে সিঙ্গেলসের ওপর জোর দেন তিনি।
ম্যাচের ১২তম ওভারে প্রথম ছক্কা হাঁকান সাইফ। এরপর ধীরে ধীরে আগ্রাসী হয়ে ওঠে তার ব্যাট। শেষ পর্যন্ত ৫ ছক্কা ও ২ চারে ৭১ রান করেন তিনি। কঠিন উইকেটে তার এই ইনিংসেই জয়ের আশা জিইয়ে রেখেছিল জনকপুর। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য জনকপুরের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান।

১৯তম ওভারে রূপেস সিংয়ের বলে সাইফ ও জিমি নিশাম মিলে তুলে নেন ১৭ রান। ফলে শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ১৩ রানে। বল হাতে আসেন আন্দ্রে রাসেল। তার ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেন সাইফ। শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে ৩ রান। কিন্তু শেষ বলেই সব হিসাব পাল্টে যায়।
রাসেলের বাউন্সারে বড় শট খেলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সাইফ। বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে তার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল। মিডউইকেটে খেলতে গিয়ে ঠিকমতো ব্যাটে-বলে সংযোগ করতে পারেননি তিনি। বলটি সহজেই তালুবন্দী করেন ওই অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার। জয়ের শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায় সেখানেই।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লোকেশ বাম, ইমরান শেখ ও আন্দ্রে রাসেলের ফিফটিতে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে বিরাটনগর কিংস। জবাবে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে জনকপুর। ৩০ রানে হারায় ৩ উইকেট। সেখান থেকে সাইফের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছানো হয়নি দলটির। ৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেও আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন সাইফ।
এমআই