হাসানের রেকর্ডগড়া বোলিংয়েও ৩৫৬ রানে থামল উইন্ডিজ
খেলা ডেস্ক
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:৫১
হাসান মাহমুদের রেকর্ডগড়া বোলিংয়ে বারবার ধাক্কা খেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবুও ক্যারিবীয়দের ইনিংস থামাতে লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। শেষ উইকেট জুটিতে ওয়ারিক্যান ও সিলসের প্রতিরোধে প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রানের পুঁজি পেয়েছে সফরকারীরা। মিরাজের বলে সিলস এলবিডব্লিউ হলে অবসান ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াইয়ের।
ক্যারিবীয়দের এই সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছেন আমির জাঙ্গু। টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক হাঁকানোর পথে ১৩৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি। শুরুর বিপর্যয় সামলে চতুর্থ উইকেটে কেভিন উইকহামের সঙ্গে তার ১৩১ রানের জুটিই বড় সংগ্রহের পথ তৈরি করে দেয়। উইকহামের ৬১ রানের পর ফিফটি তুলে নেন জাস্টিন গ্রিভসও।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২৩৫ রান। দিনের শুরুতেই জাঙ্গুর উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন হাসান মাহমুদ। ১৩৩ রানের ইনিংসটি সাজাতে ১৩টি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকান এই ব্যাটার। তার বিদায়ে ২৬৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।
এরপর হাসানের তোপে আরও বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরের বলেই রোস্টন চেজকে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী করেন এই পেসার। চেজের বিদায়ের পর জশুয়া বিশপও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২৩ রান করা বিশপকে হাসানের বলে দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে ফেরান লিটন। একের পর এক উইকেট হারিয়ে তখন চাপে সফরকারীরা।
অন্য প্রান্তে অবশ্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন জাস্টিন গ্রিভস। অর্ধশতক পূর্ণ করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ব্যক্তিগত ৫১ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হন এই ব্যাটার। তাতে ৩০১ রানে অষ্টম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ৩২৩ রানে শামার জোসেফের বিদায়ের পর মনে হচ্ছিল, দ্রুতই শেষ হবে ক্যারিবীয় ইনিংস।
বাংলাদেশের সেই অপেক্ষা দীর্ঘ করেন জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেডন সিলস। শেষ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ রান। এর আগে শেষ দুই উইকেটে ওয়ারিক্যানের সঙ্গে মোট ৫৫ রানের অবদান রাখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লোয়ার অর্ডার। শেষ পর্যন্ত মিরাজের বলে সিলস এলবিডব্লিউ হলে ৩৫৬ রানে গুটিয়ে যায় তাদের প্রথম ইনিংস।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে একাই আলো ছড়িয়েছেন হাসান মাহমুদ। ৯০ রান খরচায় নিয়েছেন ৬ উইকেট। এই পারফরম্যান্সে টেস্টে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ পেয়েছেন দুটি করে উইকেট।