Advertisement
Us Bangla Airlines
টেস্টের মেজাজ বুঝতে পারছেন না তানজিদ তামিম?

টেস্টের মেজাজ বুঝতে পারছেন না তানজিদ তামিম?

খেলা ডেস্ক

০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৯

স্টাইলিশ ব্যাটিং, চোখধাঁধানো শট আর সহজাত আগ্রাসন। ব্যাট হাতে তানজিদ তামিমের সামর্থ্য নিয়ে সংশয়ের জায়গা কম। মাঠের চারপাশে শট খেলার দক্ষতায় ইতোমধ্যে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এমন একজন ব্যাটারকে তিন সংস্করণেই খেলাতে চাইবে যেকোনো দল। বাংলাদেশও সেই পথে হেঁটেছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরি করে আস্থার প্রতিদানও দিয়েছিলেন তানজিদ। কিন্তু এরপরই যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা ম্যাচে অবশ্য শুরুতেই জীবন পেয়েছিলেন তানজিদ। তবে ওই ইনিংসে তার ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল কৌশলগত পরিবর্তন। সাধারণত সামনের পায়ে ভর করে আক্রমণাত্মক শট খেলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। এতে বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে জোরালো শট খেলা সহজ হয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তার ব্যাটিংয়ের মন্ত্র ছিল ভিন্ন, বল যতটা সম্ভব দেরিতে খেলা। ‘ক্লোজ টু ব্যাট’ করে বলের নিয়ন্ত্রণ সামলানো।

১৭ রানের জন্য রেকর্ড হলো না তামিমের

এর অর্থ এই নয় যে, নিজের সহজাত আগ্রাসন বিসর্জন দিয়েছিলেন তানজিদ। বরং প্রতিপক্ষ পেসারদের গতি ও বাউন্স বুঝে ব্যাট চালিয়েছেন। নরম হাতে বল সামলেছেন, প্রয়োজনে সামনের পায়ের বদলে ভর করেছেন পেছনের পায়ে। তাতে গতিময় বলও নিয়ন্ত্রণে রেখে ডিফেন্স করতে পেরেছেন। হঠাৎ উঠে আসা বাউন্স সামলাতেও দেখিয়েছেন পরিণতিবোধ। টেস্ট ক্রিকেটে টিকে থাকার জন্য যে ধৈর্য ও কৌশল প্রয়োজন, অস্ট্রেলিয়ায় সেই বার্তাই দিয়েছিলেন এই ওপেনার।

পরবর্তীতে সেই ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি তানজিদ। তার ব্যাটিংয়ে ফিরে এসেছে সাদা বলের পরিচিত আগ্রাসী ধরন। অনেক সময় প্রতিটি বলেই শট খেলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বলের মুভমেন্ট ও সুইং বুঝে খেলার বদলে শক্ত হাতে ব্যাট চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি। ফলও মিলছে না। লাল বলের সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে স্লিপ কিংবা গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হচ্ছে তাকে। ডট বল খেলাকে চাপ মনে করে ধৈর্য হারাচ্ছেন। তেড়েফুঁড়ে খেলতে যাচ্ছেন বড় শট।

শুধু তাই নয়, জোরে ব্যাট চালিয়ে ড্রাইভ করতে গিয়ে বল মাটি থেকে ওপরে তুলে ফেলছেন। তাতে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা ফিল্ডারদের জন্য ক্যাচ নেওয়া সহজ হয়ে যাচ্ছে। অথচ টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিটি বলকে আক্রমণ করার প্রয়োজন নেই। কখন বল ছাড়তে হবে, কখন রক্ষণাত্মক হতে হবে, কখন সুযোগ বুঝে রান বের করতে হবে, সেই হিসাবটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এখন কেমন আছেন চোট পাওয়া মুশফিক-তামিম?

পরিসংখ্যানও তানজিদের অভিজ্ঞতার ঘাটতির চেয়ে ধারাবাহিকতার অভাবকেই বেশি সামনে আনছে। ৬ টেস্টের ১১ ইনিংসে ২৭৭ রান করেছেন তিনি, ব্যাটিং গড় ২৫.১৮। একটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি থাকলেও বড় ইনিংস খেলার ধারাবাহিকতা নেই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০১ রানের পর বাকি ইনিংসে করেছেন ০, ০ ও ৯ রান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৮৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ইনিংসে ৭, ০ ও ১৬ রান।

সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বাংলাদেশের ১০৯তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয়েছে তার। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট খেলছেন এই ওপেনার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার ম্যাচসংখ্যা ৩০। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তিন বছরের বেশি সময় পার করেছেন। ফলে টেস্টের চাহিদা ও ব্যাটিংয়ের ধরন সম্পর্কে তার ধারণা থাকার কথা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি প্রমাণ করেছিল, ধৈর্য ধরে খেললে লাল বলের ক্রিকেটেও বড় ইনিংস গড়ার সামর্থ্য রয়েছে তানজিদের। কিন্তু সেই ইনিংসের পর ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিভা ও সামর্থ্য থাকার পরও টেস্টের নিজস্ব মেজাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে দীর্ঘ সংস্করণে প্রত্যাশা পূরণ কঠিন। আগ্রাসন তানজিদের শক্তি, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে সেই আগ্রাসনের লাগাম টানার কৌশলও জানতে হবে।

এমআই