হারের শঙ্কা নাকি ড্রয়ের আশা, কোন পথে বাংলাদেশ?
খেলা ডেস্ক
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:০২
সিলেট টেস্টে জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে বাংলাদেশের। চতুর্থ দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড ৩১৫ রান। হাতে এখনো ৭ উইকেট। শেষ দিনে এই ব্যবধান আরও বাড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। ফলে শান্তদের সামনে এখন বড় প্রশ্ন, হারের ব্যবধান কমাবে, নাকি কোনোভাবে ম্যাচ বাঁচিয়ে ড্র আদায় করবে?
ম্যাচের পরিস্থিতি বলছে, জয় প্রায় অসম্ভব। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ২১৫। সেটিও ২০০৮ সালের ঘটনা। এরপর ২০০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জয়ের নজির নেই টাইগারদের। সেখানে ক্যারিবীয়রা যদি প্রায় ৪০০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয়, তা পেরিয়ে জয় তুলে নেওয়া বাস্তবিক অর্থেই কঠিন।
তাহলে বাংলাদেশের সামনে বিকল্প কী? জয় বাদ দিলে বাকি থাকে হার কিংবা ড্র। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে বরং ক্রিজে টিকে থাকার লড়াই করতে পারে স্বাগতিকরা। কারণ, চতুর্থ দিনে উইকেটে বলের তেমন টার্ন কিংবা সুইং দেখা যায়নি। শেষ দিনেও বোলাররা বিশেষ সুবিধা পাবেন না।
ফলে এখন মূল কাজটি ব্যাটারদের। শেষদিনে টাইগার ব্যাটাররা ধৈর্য ধরে মাঠে টিকে থাকতে পারলে ড্র করার সুযোগ পাবে। তবে সেই কাজটিও বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে না।
সাম্প্রতিক টেস্টগুলোতে ব্যাটিং বিপর্যয়ই বারবার ডুবিয়েছে দলকে। মিরপুর টেস্টে লিড পেয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি টাইগাররা। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসেও দেখা গেছে একই চিত্র। তাওহীদ হৃদয়ের অসাধারণ ইনিংস না থাকলে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যেত না।
এমন বাস্তবতায় পঞ্চম দিনে ব্যাটারদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে। শুধু রান তোলার জন্য নয়, উইকেটে টিকে থাকার মানসিকতা নিয়েই নামতে হবে তাদের। দ্রুত উইকেট হারালে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। বিপরীতে লম্বা সময় ব্যাটিং করতে পারলে ড্রয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর সমীকরণেও তাই ড্র হতে পারে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ। তবে এজন্য বোলারদের চেয়ে ব্যাটারদের ভূমিকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাওহীদ হৃদয় প্রথম ইনিংসে দায়িত্বের নমুনা দেখিয়েছেন। এবার পালা মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তদের।
এমআই