মালয়েশিয়ার কাছে পাত্তাই পেলেন না হামজারা
খেলা ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২০
বল পায়ে বাংলাদেশের যেন এগোনোরই রাস্তা ছিল না। পেছনে ফিরলে চাপ, পাশে খেললেও ঘিরে ধরা, সামনে বাড়াতে গেলেই মালয়েশিয়ার দুই-তিনজন খেলোয়াড়ের ছুটে আসা। প্রতিপক্ষের হাইপ্রেসিংয়ে শুরু থেকেই এমন অস্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ, পুরো ম্যাচেও যার থেকে বের হতে পারেনি টমাস ডুলির দল। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে রক্ষণভাগের একের পর এক ভুল। ফলে ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩–০ গোলের হারল বাংলাদেশ।
জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। বল হারানোর পর মুহূর্তেই তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছে তারা। বাংলাদেশের রক্ষণে বল গেলেই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা নেমে এসে চাপ তৈরি করেছেন। ফলে নিচ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগই পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। মাঝমাঠে সোহেল রানা বারবার পেছনে বল খেলতে বাধ্য হয়েছেন। সামনের দিকে বল নিয়ে যাওয়ার চেয়ে নিজেদের অর্ধেই বেশি সময় কাটাতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
চতুর্থ মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ পায় মালয়েশিয়া। কর্নার থেকে ফিরতি বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নেন ফয়সাল হালিম। মেহেদী হাসান শ্রাবণ দারুণ ফিস্ট করে সেটি বাইরে পাঠান। তবে সেই আক্রমণেই থামেনি মালয়েশিয়ার চাপ। ১৮ মিনিটে আসে প্রথম গোল। নিজেদের অর্ধ থেকে নোয়া লেইনের বাড়ানো বল বাংলাদেশের রক্ষণভাগের পেছনে চলে যায়। সেটি নিয়ন্ত্রণ করে ডান দিক থেকে বক্সে ঢুকে পড়েন আরিফ আইমান। তপু বর্মণ তাঁকে অনুসরণ করেও শেষ মুহূর্তে শটের পথ আটকাতে পারেননি। নিচু কোনাকুনি শটে শ্রাবণকে পরাস্ত করেন আরিফ।
গোল খাওয়ার পর কিছুটা গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে হামজা চৌধুরী সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, বাঁ দিক দিয়ে ফারহান আলী ওয়াহিদও উঠেছেন। ২৫ মিনিটে সোহেলের পাস ধরে বক্সের দিকে এগিয়ে যান ফারহান। ভেতরে ঢুকছিলেন ফাহামিদুল ও শমিত সোমও। কিন্তু মালয়েশিয়ার রক্ষণ শেষ মুহূর্তে সেই আক্রমণ থামিয়ে দেয়।
বাংলাদেশের বড় সমস্যা ছিল ধারাবাহিকতা। একটি আক্রমণ তৈরি হওয়ার পরই ভুল পাসে সেটি থেমে গেছে। ৩৩ মিনিটে ফাহামিদুলের পাস থেকে শমিত সোমের ক্রস পেয়েছিলেন রাকিব হোসেন। তাঁর শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর চার মিনিট পরই বাংলাদেশের রক্ষণে আরেকটি বড় ভুল। বক্সের সামনে তপুর পায়ে বল থাকতেই চাপ দেন স্টুয়ার্ট উইলকিন। তপুর নিয়ন্ত্রণ হারানোর সুযোগে বল কেড়ে নিয়ে আরিফ আইমানকে দেন তিনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবারও গোল করেন আরিফ। প্রথম গোলের মতো দ্বিতীয় গোলেও বাংলাদেশের রক্ষণে সমন্বয়হীনতা ছিল স্পষ্ট।
বিরতির আগে অবশ্য শ্রাবণ একাধিকবার বাংলাদেশকে আরও বিপদ থেকে বাঁচান। ফয়সাল হালিমের বিপজ্জনক শটও ঠেকান তিনি। তবু দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে। দ্বিতীয়ার্ধে দুই পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। শাহরিয়ার ইমন ও শিকি ইতোফুসা মাঠে নামেন। কিন্তু বদলি খেলোয়াড়েরা মাঠে নিজেদের প্রভাব রাখার আগেই তৃতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ।
৫২ মিনিটে করবিন লাভেরের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণ করেন বার্গসন। ৯০ ডিগ্রি ঘুরে নেওয়া নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। কাছেই থাকা তপুও তাঁকে আটকাতে পারেননি। বাংলাদেশ তখন ৩–০ গোলে পিছিয়ে। এরপর কিছুটা গতি কমিয়ে দেয় মালয়েশিয়া। তাতে বাংলাদেশের আক্রমণেও সামান্য প্রাণ ফেরে। শেখ মোরসালিন ও জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ মাঠে নামার পর আরও কিছুটা চাপ তৈরি করে বাংলাদেশ।
৭৬ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি পেয়েছিলেন হামজা। শাহরিয়ার ইমনের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে ঢুকে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেন তিনি। মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক প্রথম প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন, ফিরতি বলেও হামজাকে গোল করতে দেননি। পরে শাহরিয়ার ইমনের আরেকটি শটও গোলরক্ষকের হাতে জমা পড়ে। এরপর আর কোনো নাটক হয়নি। ৩–০ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।