বাংলাদেশকে ভুগিয়ে পরাজয় হজম করল আয়ারল্যান্ড
খেলা ডেস্ক
১৪ নভেম্বর ২০২৫, ১৩:০৩
ইনিংস হার এড়াতে আয়ারল্যান্ডের দরকার ছিল আরও ২১৫ রান, হাতে বাকি মাত্র পাঁচ উইকেট। তৃতীয় দিনের শেষে মনে হয়েছিল, চতুর্থ দিনের সকালেই গুটিয়ে যাবে তারা। কিন্তু আইরিশদের লেজের ব্যাটাররা যেন অন্য গল্প লিখতে নেমেছিলেন—বাংলাদেশি বোলারদের ঘাম ছুটিয়ে দেড় সেশনে তুললেন ১৬৯ রান। তবুও শেষরক্ষা হলো না; টাইগাররা ইনিংস ও ৪৭ রানের জয়ে তুলে নিল ম্যাচ।
দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নামে আয়ারল্যান্ড। দুই টপঅর্ডারের ফিফটিতে প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রান তুলেছিল আইরিশরা। সেই জবাবে জয় আর শান্তর সেঞ্চুরিতে ৫৮৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। বিশাল ৩০১ রানের লিডে তখনই ম্যাচের রং পাল্টে যায়।
পাহাড়চূড়ায় ওঠার পথে তৃতীয় দিনেই মাত্র ৮৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আইরল্যান্ড কার্যত ধসে পড়েছিল। কিন্তু চতুর্থ দিনের সকাল-দুপুরে তাদের অদম্য লড়াই বাংলাদেশকে অপেক্ষায় রাখে। মধ্যাহ্ন বিরতিতে স্কোর ১৯৮/৭—অর্থাৎ ইনিংস হার ঠেকানোর স্বপ্ন তখনো বাঁচিয়ে রেখেছিল আইরিশরা। বিরতির পর ব্যারি ম্যাককার্থি ও জর্ডান নেইল বদলে দিলেন ম্যাচের ছন্দ।
৫৬ বলে ৫৪ রান তুললেন নবম উইকেটে, একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চাপে ফেললেন বাংলাদেশকে। তবে বেশি সময় টিকতে দেননি মুরাদ তাই। নেইলকে ফেরানোর পর একই স্পেলে থামিয়ে দেন ম্যাককার্থিকেও। ২৫৪ রানে শেষ হয় আয়ারল্যান্ডের প্রত্যাবর্তনের গল্প।

দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। বালবার্নি ৩৮, নেইল ৩৬, ম্যাককার্থি ২৫ আর স্টার্লিংয়ের ৪৩ রান আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহে লড়াইয়ের আভাস দিলেও ফল পাল্টাতে পারেনি। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে অভিষিক্ত মুরাদ নেন ৪ উইকেট, প্রথম ইনিংস মিলিয়ে মোট ৬। তাইজুলের শিকার ২, নাহিদ রানার ১।
ম্যাচসেরা হয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়—১৭১ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে। ডাবল সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ তার কণ্ঠে থাকলেও, পারফরম্যান্সে ফিরেছেন নিজের ছন্দে।
শেষ পর্যন্ত ফলাফলে কোনো নাটক হয়নি। তবে আয়ারল্যান্ডের টেলএন্ডারদের অনমনীয় লড়াই ম্যাচটিকে দিয়েছে অন্য মাত্রা।
এমআই