মোস্তাফিজের ৯.২০ কোটির কী হবে, যা বলছে আইপিএলের নিয়ম
খেলা ডেস্ক
০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৭
আইপিএল শুরুর আগেই অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখে কলকাতা নাইট রাইডার্স। কদিন আগেই নিলামে রীতিমতো লড়াই করে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। অথচ বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো কলকাতা। তাতেই প্রশ্ন ওঠেছে, মোস্তাফিজের ৯.২০ কোটি রুপির ভাগ্যে কী আছে?
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশের কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর চাপ ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটেই বিসিসিআই হস্তক্ষেপ করে কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ফলে এটি কোনো খেলোয়াড়-ইনজুরি বা ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা নয়; বরং ক্রিকেটের বাইরের বাস্তবতায় নেওয়া এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
আইপিএলের নিলাম নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত কোনো খেলোয়াড় কেনার পর ফ্র্যাঞ্চাইজির পার্স লকড হয়ে যায়। তবে মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা। তিনি নিজে সরে দাঁড়াননি, আবার চোটের কারণেও বাইরে নন। এখানে বিসিসিআই সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে, যা আইপিএলের অপারেশনাল গাইডলাইনের আওতায় পড়ে।

লিগের নিয়ম বলছে, ক্রিকেটের বাইরের কারণে যদি বিসিসিআই কোনো খেলোয়াড়কে সরিয়ে নিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বাধ্য করে, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দল নিলামে খরচ করা পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি রাখতে পারে। সেই হিসাবে কেকেআরের সামনে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি ফেরত পাওয়ার জোরালো সুযোগ রয়েছে। তারা পুনরায় এই টাকা খরচ করতে পারবে।
এই পরিস্থিতিকে মূলত ‘ফোর্স মাজর’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে চুক্তির শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয় না। ফলে মোস্তাফিজের সঙ্গে চুক্তি কার্যকর করার দায়ও কেকেআরের ওপর বর্তায় না, কারণ তার আইপিএল ছাড়ার নির্দেশ এসেছে বোর্ডের পক্ষ থেকেই।
তবে ভবিষ্যতে যদি মোস্তাফিজ কলকাতার কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন, তাহলে সেটি জটিল আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। এই অর্থ ফেরত পাওয়া কেকেআরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মোস্তাফিজের টাকায় তারা বিকল্প ক্রিকেটার কিনতে পারবে। কিন্তু এই টাকা যদি মোস্তাফিজকেই দিতে হয় তবে বেশ বিপাকে পড়বে কলকাতা।

এদিকে কেকেআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা অনুসারে সকল প্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আইপিএলের নীতিমালা অনুযায়ী বদলি খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিস্তারিত জানানো হবে।’
তবে মূল ব্যাপার হলো, আইপিএলে কখনোই ক্রিকেটারকে জোরপূর্বক বাদ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ফলে মোস্তাফিজের বিষয়ে নতুন সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে কলকাতা ও আইপিএল। নিয়ম মোতাবোক কোনো পরিষ্কার তথ্য না থাকায় পাওনা নিয়ে ঝামেলায় পড়তে পারেন মোস্তাফিজও। দেখার পালা, শেষ পর্যন্ত জল কোথায় গড়ায়।
এমআই