১১ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১ রানে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
খেলা ডেস্ক
১৫ মার্চ ২০২৬, ২২:৪৫
শেষ ওভারের রোমাঞ্চ, গ্যালারিতে টানটান উত্তেজনা। সব মিলিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে ১১ রানের নাটকীয় জয়ে ২-১ ব্যবধানে ট্রফি ঘরে তুলেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়টাও এসেছে ১১ বছর পর।
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ তোলে ২৯০ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার গতির ঝড়ে মাত্র ১৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে (৬) ফিরিয়ে দেন তাসকিন। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে (৬)। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও (৪) সাজঘরে ফেরান তাসকিন।

চাপ সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ। তবে বড় প্রতিরোধ গড়তে পারেননি তারা। ৩৯ বলে ২৯ রান করে আউট হন ঘুরি, আর ৪৫ বলে ৩৪ রান করে ফেরেন সামাদ।
একশ রান হওয়ার আগেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন সালমান আলি আগা। তাকে সঙ্গ দেন অভিষিক্ত ব্যাটার সাদ মাসুদ। দুজনে মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়লেও সেটি ভেঙে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৩৮ রানে মাসুদকে দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করেন এই বাঁহাতি পেসার।
পরে ফাহিম আশরাফকে (৯) বোল্ড করে তাসকিন আবারও আঘাত হানেন। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান সালমান আলি আগা। তার ব্যাটেই জয়ের স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। কিন্তু শেষদিকে প্রয়োজনীয় রান তুলতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ১১ রানে হেরে যায় সফরকারীরা।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ, একাই নেন চারটি উইকেট।

এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করেন দুই ওপেনার। সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রান।
সাইফ ৫৫ বলে ৩৬ রান করে আউট হলেও দিনটি ছিল তানজিদের। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ ওপেনার। মাত্র ৪৭ বলে ফিফটি করে পরে ৯৮ বলে পূর্ণ করেন শতক। শেষ পর্যন্ত ১০৭ বলে ১০৭ রান করে আউট হন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা।
মাঝের দিকে লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের জুটিতে আবার গতি পায় বাংলাদেশের ইনিংস। চতুর্থ উইকেটে তারা যোগ করেন ৬৮ রান। লিটন ৪১ রান করে আউট হলেও হৃদয় শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন। আফিফ হোসেনও ৫ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন হারিস রউফ। আবরার আহমেদ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি নেন একটি করে উইকেট।
এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। সবশেষ ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা। প্রায় এক দশক পর আবারও সেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসল বাংলাদেশ।
এমআই