বিবর্ণ ক্রিকেট ক্যারিয়ার, নির্বাচক হিসেবে আশা দেখাবেন নাদিফ?
ইকবাল আজাদ
২৫ মার্চ ২০২৬, ১৪:৫৬
লক্ষ্যটা বড়ই ছিল, না হয় জাতীয় দলে খেললেন কীভাবে! বলছিলাম ক্রিকেটার নাদিফ চৌধুরীর কথা। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট পেরিয়ে জায়গা পেয়েছিলেন জাতীয় দলে। অলরাউন্ডার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা নাদিফ জাতীয় দলে ফিনিশারের ভূমিকায় খেলেছিলেন। ঘরোয়া লিগে অনায়াসে চার-ছক্কা মারতে পারেন বলে সুনাম ছিল তার। বরিশাল বিভাগের হয়ে রানের ফোয়ারা বইয়ে এসেছিলেন আলোচনায়। বয়সভিত্তিক দলেও ছিলেন বেশ ধারাবাহিক। তাতে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই জায়গা পেয়ে যান জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।
দেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ম্যাচের সদস্য ছিলেন নাদিফ চৌধুরী। শাহরিয়ার নাফিসের নেতৃত্বে খেলা সেই ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বলার মতো কিছুই করতে পারেননি নাদিফ। অভিষেক ম্যাচে সাত বলে করেছিলেন কেবল ১০ রান। এরপর জাতীয় দলের জার্সিতে ২০০৭ বিশ্বকাপে আরও দুই ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন এই ব্যাটার। সেখানেও দিয়েছেন ব্যর্থতার পরিচয়। তাতে তিন ম্যাচ মিলিয়ে তার রান মাত্র ২৭, গড় ৯। এতেই জাতীয় দলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় এই ক্রিকেটারের।
দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে না পারলেও ঘরোয়া লিগে লম্বা সময় খেলেছেন তিনি। বিপিএলেও আট মৌসুমে খেলার সুযোগ পেয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। শুরুর কয়েক মৌসুমে কিছুটা আলোচনায় থাকলেও বাকি আসরগুলোতে ছিলেন নির্বিষ। অবশ্য নিজেকে প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত ম্যাচও পাননি তিনি। তবে যেসব ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন, সেখানেও রাখতে পারেননি কার্যকরী ভূমিকা। সবশেষ সিলেটের জার্সিতে বিপিএল খেলা নাদিফ সুযোগ পেয়েছিলেন কেবল এক ম্যাচ। সেখানে অপরাজিত ৬ রান করলেও বাকি ম্যাচের জন্য বিবেচিত হননি।
জাতীয় দলে জায়গা হারালেও তরুণদের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানোর কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন নাদিফ চৌধুরী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটার রিপন মণ্ডল জানিয়েছেন, তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সুন্দর সময়ের পেছনে বড় অবদান ছিল নাদিফ চৌধুরীর। বয়সভিত্তিক দল থেকেই রিপনকে পরিচর্যা করেছেন ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। গেল বছর পেশাদার ক্রিকেটকে পাশে রেখে মেধার খোঁজে বেরিয়েছেন তিনি। ৬০ হাজার টাকা বেতনে বিসিবির জুনিয়র নির্বাচক পদে দায়িত্ব পালন শুরু করা নাদিফ এবার যুক্ত হয়েছেন জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলে।
বয়সের হিসাবে সাকিবের তুলনায় ছোট জাতীয় দলের নতুন নির্বাচক নাদিফ চৌধুরী। সম্প্রতি ৩৯ বছরে পা দেওয়া সাকিব আর ৩৯ এর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মুশফিকের কাছাকাছি বয়সী তিনি। যদিও বয়সভিত্তিক দলে মুশফিকদের আগের ব্যাচে খেলেছিলেন এই ক্রিকেটার। জাতীয় দলে সাকিব-মুশফিকদের কারণেই জায়গা হারিয়েছেন তিনি। কারণ, মিডল অর্ডারে তখন একাধিক ব্যাটার ছিলেন যারা অলরাউন্ডারের ভূমিকা পালন করতেন। সেখানেই পিছিয়ে পড়ে জাতীয় দল থেকে জায়গা হারিয়েছেন মানিকগঞ্জের নাদিফ চৌধুরী। বাঁহাতি অর্থোডক্স বল করতে পারলেও জাতীয় দলে তিনি খেলেছেন কেবল ব্যাটার হিসেবে। ফলে ব্যাট হাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে না পারায় তিন ম্যাচ খেলেই বাদ পড়েছেন।
পরিশ্রম মানুষকে সাফল্যের পথ দেখায়। জাতীয় দলে পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়া সেই নাদিফ পরিশ্রমের বলেই নতুন নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। টি-টোয়েন্টি দলে সাকিব–মুশফিকদের কারণে খুব একটা সুযোগ না পাওয়া এই ক্রিকেটার আজ দল বাছাইয়ে সাকিব–মুশফিকদের ভূমিকা নিয়ে কলাকৌশল আঁকবেন। সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন তার যুবা দলের দুই সদস্য নাইম ইসলাম ও নাফিস ইকবাল। নাইম নির্বাচক হিসেবে কাজ করলেও নাফিস থাকছেন দলের ম্যানেজারের ভূমিকায়। সতীর্থদের সহায়তা আর নিজের বুদ্ধিমত্তায় নাদিফ চৌধুরী এবার জাতীয় দলে নিশ্চয়ই নিজের ক্যারিয়ারটা বড় করতে চাইবেন।
এমআই