খালেদের ফাইফারে সুযোগ বাড়বে বাংলাদেশিদের!
খেলা ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭
কাউন্টির ঘাসে বল হাতে বাংলাদেশের পেসারদের সামর্থ্যের নতুন বিজ্ঞাপন যেন খালেদ আহমেদ। কেন্টের হয়ে ৫ উইকেট নিয়ে শুধু নিজের নামই উজ্জ্বল করেননি, একই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে আরও বাংলাদেশি বোলারের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। আগামীতে তরুণ বাংলাদেশিদের কাউন্টিতে দেখা যেতে পারে।
ফাইফার পাওয়ার পর বোলারকে সেই বলটি স্মারক হিসেবে রেখে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। খালেদের হাতেও উঠে আসে সেই বল। ইনিংস শেষে সেটি হাতে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ দেখেছেন তিনি। ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম ফাইফার নয়, তবে কাউন্টি ক্রিকেটে প্রথমবার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন বাংলাদেশের এই পেসার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার দশম ফাইফার।
কেন্টে খালেদের পথটা তৈরি হয়েছিল কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে কাউন্টিতে খেলতে নেমেছিলেন হাসান মাহমুদ। একই দলে থাকার কথা ছিল শরিফুল ইসলামেরও। কিন্তু ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনার কারণে শরিফুলকে খেলার অনুমতি দেয়নি বিসিবি। সেই সুযোগেই কেন্টের স্কোয়াডে জায়গা করে নেন খালেদ।
হাসানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে খেলার সুযোগ হয়নি তার। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন। এরপর তৃতীয় ম্যাচের আগে হাসানকে দেশে ফিরিয়ে নেয় বিসিবি। ফলে কেন্টের বোলিং আক্রমণে বিদেশি পেসার হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়ে খালেদের কাঁধে।
চাপ সামলে সেই দায়িত্বই দারুণভাবে পালন করেছেন তিনি। পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে প্রমাণ করেছেন, ইংল্যান্ডের ঘাসের উইকেট কিংবা বাতাসের বাড়তি সহায়তা কাজে লাগানোর মতো অস্ত্র তার বোলিংয়েও আছে। হাসানকে হারানোর পর কেন্টের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, খালেদের পারফরম্যান্স সেটি অনেকটাই পূরণ করেছে।
খালেদের এই সাফল্যের প্রভাব শুধু কেন্ট কিংবা তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। কাউন্টিতে বাংলাদেশি পেসারদের জন্য যে দরজা ইতোমধ্যে খুলতে শুরু করেছে, এমন পারফরম্যান্স সেই দরজাকে আরও প্রশস্ত করতে পারে।
হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম এরই মধ্যে কাউন্টির নজরে এসেছেন। নাহিদ রানা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের গতি ও বোলিং দিয়ে আলাদা করে আলোচনায়। সামনে তাসকিন, এবাদতদের মতো পেসারদের নিয়েও বিদেশি দলগুলোর আগ্রহ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্পিনারদের জন্যও কাউন্টিতে সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খালেদের ক্যারিয়ারের পথও সহজ ছিল না। একসময় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে তার গড় নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু তার সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখেছিল বিসিবি। এবার দেশের বাইরের ক্রিকেটে পারফরম্যান্স দিয়ে সেই আস্থারই জবাব দিচ্ছেন তিনি।
কাউন্টিতে খালেদের ফাইফার তাই নিছক ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি বাংলাদেশের পেসারদের জন্য আরও বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সম্ভাবনার কথাও বলছে। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে নিজের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন খালেদ। এবার সেই ধারটা জাতীয় দলের জার্সিতেও দেখানোর অপেক্ষা।
এমআই