বাংলাদেশকে স্পিন খেলা শিখিয়ে জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
খেলা ডেস্ক
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২৩
মিরপুরে স্পিনের ঘূর্ণিতে বাংলাদেশকে নাস্তানাবুদ করে চার দিনের মধ্যেই জয় তুলে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে যাওয়ার খেসারত দিতে হলো বড় ব্যবধানে হেরে। জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করেছে ক্যারিবীয়রা। এই জয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।
জয়ের জন্য লক্ষ্যটা খুব বেশি বড় ছিল না। তবে মিরপুরের উইকেটে লড়াই জমাতে হলে শুরুতেই ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনআপে আঘাত হানা জরুরি ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু বোলারদের সেই প্রত্যাশিত সাফল্য পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেকটা সময়। প্রথম উইকেটের দেখা মিলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান একশ পেরোনোর পর।
২১তম ওভারে অবশেষে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন শরিফুল ইসলাম। তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ভেঙে যায় জন ক্যাম্পবেলের লেগ স্টাম্প। সতীর্থদের সঙ্গে উইকেট উদযাপনে মাতেন বাঁহাতি পেসার। তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। প্রথম উইকেটে ১১২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন দুই ওপেনার।
ক্যাম্পবেলের বিদায়ে বাংলাদেশের গ্যালারিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কারণ, অর্ধশতকের খুব কাছে গিয়েও ফিফটি পূর্ণ করতে পারেননি তিনি। ৫৫ বলে ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।
অন্য প্রান্তে অবশ্য দাপট অব্যাহত রাখেন ব্র্যান্ডন কিং। ৪৪ রানে দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়েছিলেন তিনি। ক্যাচটি ধরতে না পারায় বল সীমানা ছাড়িয়ে যায়। পরের বলেও চার হাঁকিয়ে নিজের রান বাড়ান কিং। এরপর ৬৮ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট অর্ধশতক।
এরই মধ্যে আঙুলের চোটে মাঠ ছাড়তে হয় শান্তকে। তার অনুপস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলান মেহেদী হাসান মিরাজ।
ক্যাম্পবেলের বিদায়ের পর দ্রুত আরেকটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। তেজনারায়ণ চন্দরপলকে মাত্র ১ রানে তাইজুল ইসলামের ক্যাচে পরিণত করেন হাসান মাহমুদ। কিন্তু এরপর আর কোনো বিপদে পড়তে হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। কাভেম হজকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজ অনায়াসেই শেষ করেন কিং।
৩৬তম ওভারের প্রথম বলেই জয়সূচক রান তুলে নেন কিং। ১১৫ বলে আটটি চারের সাহায্যে ৮১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্যদিকে হজের ব্যাট থেকে আসে ২৭ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংস। ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেটে ১৭০ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অথচ ম্যাচের চিত্রটা ভিন্ন হতে পারত বাংলাদেশের ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারলে। প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ার পরও দ্বিতীয় ইনিংসে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। আগের দিনের ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। বাকি চার উইকেট হারিয়ে যোগ করতে পারে মাত্র ৬৩ রান।
তবে একপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান নাঈম হাসান। ১৮ রান নিয়ে দিন শুরু করে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তার ৫২ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ পৌঁছায় ১৪২ রানে। কিন্তু জয়ের জন্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার মতো সংগ্রহ ছিল না সেটি।
মিরপুরের স্পিনবান্ধব উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের অসহায়ত্বই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। একই উইকেটে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা দেখিয়ে দিলেন, কীভাবে ধৈর্য ও কৌশলে স্পিন সামলে জয়ের পথে এগোতে হয়। চার দিনের মাথায় ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সেই বার্তাই দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।