Advertisement
Us Bangla Airlines
জাপানেও মিরপুরের ভূত, লিটনদের সামনে কঠিন পরীক্ষা

জাপানেও মিরপুরের ভূত, লিটনদের সামনে কঠিন পরীক্ষা

খেলা ডেস্ক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:১৮

মিরপুরের মন্থর ও নিচু পিচের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পরিচয় বহুদিনের। সেই পিচে স্পিনের ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষকে নাকাল করার দৃশ্যও কম দেখেনি ভক্তরা। এবার সেই মিরপুরের স্মৃতিই যেন ফিরে এসেছে জাপানে। এশিয়ান গেমসের জন্য তৈরি করা পিচে দেখা যাচ্ছে মন্থর গতি, টার্ন আর অস্বাভাবিক বাউন্স। লিটনদের সামনে যেন অপেক্ষা মিরপুর জুজু।

বাংলাদেশের মিরপুরের কালো পিচে স্পিনারদের দাপটের অন্যতম কারিগর ছিলেন গামিনি ডি সিলভা। বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার এশিয়ান গেমসের জন্য জাপানের পিচ তৈরির দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। পুরুষ দলের টুর্নামেন্টের শুরুতেই সেই পিচের চরিত্র যেন বেশ পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।

এশিয়ান গেমসের জন্য জাপান আলাদাভাবে তৈরি করেছে ক্রিকেটের উইকেট। নতুন করে তৈরি করা সেই পিচে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা অচেনা আচরণ দেখা যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে বলের ধীরগতি। সঙ্গে স্পিনাররা পাচ্ছেন বাড়তি টার্ন ও বাউন্স। ফলে নারীদের ম্যাচে কিছুটা রান দেখা গেলেও ছেলেদের ব্যাটিংয়ের গতি ক্রমেই কমে আসছে।

জাপানের বিপক্ষে আজ মাঠে নেমে আফগানিস্তান কোনোমতে ১২৯ রান তুলেছে। সেই রান নিয়েই তারা ম্যাচ জিতেছে ৪৮ রানে। স্কোরলাইনই বলে দিচ্ছে, ব্যাটারদের জন্য কাজটা কতটা কঠিন ছিল। পুরো ম্যাচে আফগান ব্যাটারদের লড়তে হয়েছে বলের গতির সঙ্গে। ব্যাটে আসার আগেই বলের গতি কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক শট খেলাও কঠিন হয়ে উঠেছিল।

মিরপুরের কালো পিচ নিয়েও বাংলাদেশের ব্যাটারদের এমন অভিজ্ঞতা আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র বদলেছে। মিরপুরের উইকেটের পুরোনো দুর্নাম ঘোচাতে কাজ করছেন টনি হেমিং। গত এক বছরে সেখানে আগের মতো টার্ন কিংবা বাউন্স দেখা যাচ্ছে না। বরং তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটেই খেলছে বাংলাদেশ।

জাপানের উইকেট অবশ্য লিটনদের আবার ফিরিয়ে নিতে পারে সেই পুরোনো বাস্তবতায়। যেখানে ব্যাট হাতে ধৈর্য, শট নির্বাচনে সতর্কতা আর স্পিন মোকাবিলায় দক্ষতাই হয়ে উঠবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

এমন পিচে বাংলাদেশের বোলিংয়েও আলাদা নজর থাকবে নাসুম আহমেদের ওপর। স্টাম্প বরাবর বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে মন্থর উইকেট তার জন্য বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। বলের গতি কম থাকায় ব্যাটারদের শট খেলতে বাধ্য করে ভুল আদায় করার সুযোগও থাকবে।

বল হাতে এক্স ফ্যাক্টর হতে পারেন আলিস আল ইসলাম। ছেলে ও মেয়েদের ম্যাচ একই মাঠে হওয়ায় উইকেটের ওপর নিয়মিত খেলার প্রভাব পড়বে। ম্যাচ যত গড়াবে, পিচ ততটাই ক্লান্ত হয়ে উঠতে পারে। আর ক্লান্ত উইকেটে রান তোলার গতি আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে লিটনদের কেবল প্রতিপক্ষ নয়, পিচের সঙ্গেও লড়তে হবে।

এমআই