একাদশ নির্বাচন থেকে বোলিং বদল, লিটনের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের হার!
খেলা ডেস্ক
০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৪
টসে হার দিয়ে শুরু, শেষটা হলো হারে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই পরাজয়ের পেছনে শুধু ব্যাটারদের ব্যর্থতা কিংবা বোলারদের খরুচে বোলিং নয়, প্রশ্ন উঠছে অধিনায়ক লিটন দাসের একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েও। একাদশ নির্বাচন থেকে শুরু করে বোলিং পরিবর্তন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে লিটনের সিদ্ধান্তগুলোই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামার আগে একাদশ দেখেই তৈরি হয়েছিল প্রশ্ন। স্বল্প ওভারের ম্যাচে যেখানে দ্রুত রান তোলার জন্য পাওয়ার হিটার প্রয়োজন, সেখানে বাংলাদেশ একাদশে ব্যাটারের সংখ্যা কমিয়ে বাড়িয়েছে বোলিং অপশন। জিম্বাবুয়ে সিরিজে ভালো ব্যাটিং করা ইয়াসির আলী রাব্বিকে রাখা হয়নি দলে। অথচ তার জায়গায় সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত শেষ পর্যন্ত ব্যাট হাতে ১৬ বলে করেন ১১ রান এবং বোলিংয়েও পাননি এক ওভার।
তাহলে মোসাদ্দেককে কেন নেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্ন থাকছেই। যদি তাকে মূলত বাড়তি বোলিং অপশন হিসেবে একাদশে রাখা হয়ে থাকে, তাহলে ম্যাচে সেই অপশন কাজে লাগানো হলো না কেন? আর যদি বোলিংয়ের প্রয়োজনই না থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে ইয়াসির আলীকে খেলিয়ে ব্যাটিং শক্তি বাড়ানো যেত কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং যে খুব একটা ভালো হয়েছে, তা বলার সুযোগ নেই। মাত্র ২২ রানে তিন উইকেট হারানোর পর দলকে টেনে তুলেছেন তাওহীদ হৃদয়। ২৫ বলে তার ৪২ রানের ইনিংস না থাকলে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০০ পার হতো কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে থামতে হয়েছে টাইগারদের।
ব্যাটিংয়ে এমন বিপর্যয়ের পরও প্রশ্ন থামেনি বোলিংয়ে। জাপানের এই উইকেটে স্পিনাররা যে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন, তা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই পরিষ্কার। অথচ বাংলাদেশ দলে তিনজন জেনুইন স্পিনার থাকার পাশাপাশি সাইফ হাসানের মতো পার্টটাইম অপশনও ছিল। এরপরও মোসাদ্দেককে এক ওভারও না করানোয় একাদশের ভারসাম্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এরপর বোলিং পরিবর্তনে আরও বিস্ময় তৈরি করেন লিটন। নাসুম আহমেদ আগের দুই ওভারে রান দেওয়ার পর ডানহাতি ব্যাটারকে সামনে পেয়ে তাকে আবারও আক্রমণে আনেন অধিনায়ক। অন্যদিকে বাকি স্পিনাররা তুলনামূলক ভালো করার পরও খরুচে মুস্তাফিজুর রহমানকে বল তুলে দিয়েছেন তিনি। ম্যাচটা সেখানেই ঘুরে যায়।
মুস্তাফিজের দুই ওভারেই বাংলাদেশকে গুনতে হয়েছে ৪১ রান। যে উইকেটে স্পিনাররা কার্যকর, সেখানে পেসারকে এমন সময়ে আক্রমণে আনা কেন হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য ম্যাচ শেষে লিটনের কাছ থেকে মেলেনি স্পষ্টভাবে। বরং মুস্তাফিজকে আবার বল দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় অধিনায়ক বলেন, ‘আমার কাছে বেস্ট অপশন মুস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনও মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।’

ম্যাচের আগে থেকেই জাপানের উইকেটের চরিত্র দলগুলোর জানা ছিল। বৃষ্টির কারণে অনুশীলনেও সমস্যা হয়েছে সবার। পাকিস্তানও একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এসেছে। কিন্তু মাঠে তারা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ক্রিকেট খেলেছে।
বাংলাদেশের ব্যর্থতার আরেকটি ব্যাখ্যা হিসেবে ম্যাচ শেষে দীর্ঘদিন অনুশীলনের বাইরে থাকার বিষয়টি সামনে আনেন লিটন। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে রুমে বসা, পাশাপাশি আমরা টসে হেরে গেছি। উইকেটটাও একটু কঠিন ছিল। যদি ভালো খেলতে পারতাম ভালো হতো, কিন্তু এটা খুবই সহজ না যে আপনি এতদিন বসে থাকবেন এবং মাঠে নেমে দুর্দান্ত ইনিংস খেলবেন।’
কিন্তু সেই ব্যাখ্যাও পুরোপুরি প্রশ্নমুক্ত নয়। কারণ দলের কোচ আগেই জানিয়েছিলেন, এমন পরিস্থিতিতে মাঠে ফেরার জন্য তারা প্রস্তুত। একইভাবে পাকিস্তানও দীর্ঘদিন নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পায়নি। তারপরও তারা নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।
শেষ পর্যন্ত ১১১ রানের পুঁজি নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াই জমাতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে হারের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে শুধু ব্যাটিং কিংবা বোলিং নয়, অধিনায়কের সিদ্ধান্তগুলো। একাদশে ব্যাটারের ঘাটতি, মোসাদ্দেককে বোলিংয়ে না আনা, নাসুম ও মুস্তাফিজকে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে লিটনের সিদ্ধান্ত নিয়েই এখন প্রশ্ন বেশি।