Advertisement
Us Bangla Airlines
প্রস্তুতিতে প্রমাণ দিয়েও ব্রাত্য সৌম্য সরকার

প্রস্তুতিতে প্রমাণ দিয়েও ব্রাত্য সৌম্য সরকার

খেলা ডেস্ক

০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:১৫

সুযোগের অপেক্ষা, পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা, এরপরও উপেক্ষিত থাকা। সৌম্য সরকারকে ঘিরে যেন একই গল্পের পুনরাবৃত্তি। বয়স ৩৩ পেরিয়েছে। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি সুযোগই তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অথচ প্রস্তুতি ম্যাচে রান করেও একাদশে জায়গা হলো না এই বাঁহাতি ব্যাটারের।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতার মতোই সৌম্যর অপেক্ষার গল্পে জমেছে অভিমান। জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি, সব সংস্করণেই নিজেকে মেলে ধরার প্রত্যাশা ছিল তার। নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু সুযোগ পাওয়ার প্রশ্নে সেই প্রচেষ্টার প্রতিফলন কতটা ঘটছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে টেস্ট দলে ফিরেছিলেন সৌম্য। বিদেশের মাটিতে তার পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টে সাদমান ইসলাম প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও একাদশে সুযোগ মেলেনি সৌম্যর।

এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলেও রাখা হয় তাকে। তাতে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছিল, এবার হয়তো সাদা পোশাকে মাঠে নামার সুযোগ পাবেন তিনি। সেই আশায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স। সেখানে ব্যাট হাতে ৫৭ রান করেন সৌম্য।

অর্ধশতকের পর সৌম্যকে তুলে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি তিনি। প্রস্তুতি ম্যাচে এমন পারফরম্যান্সের পর অনেকেরই ধারণা ছিল, একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেছেন এই ব্যাটার। কিন্তু বাস্তবে হলো উল্টো। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের একাদশে সৌম্যকে রাখা হয়নি।

ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া সাদমান মাত্র ৫ রানে ক্যাচও দিয়েছেন। তবে আফগানরা সেটা ধরতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে সৌম্যকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। বিশেষ করে প্রস্তুতি ম্যাচে রান করার পরও যখন সুযোগ মেলে না, তখন একজন ক্রিকেটারের সামনে নির্বাচকদের আস্থা অর্জনের পথটা ঠিক কোথায়?

সৌম্যর বয়স এখন ৩৩। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করার সময়ও সীমিত হয়ে আসছে। এই অবস্থায় তাঁকে দলে রেখে শুধু অপেক্ষায় না বসিয়ে মাঠে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ দেওয়া যেত কি না, তা নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক। কারণ, প্রস্তুতিতে ভালো খেলার পরও যদি জায়গা না মেলে, তাহলে ভবিষ্যতে সুযোগ পাওয়ার নিশ্চয়তা কোথায়?

অবশ্য সৌম্যকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আবুধাবির উইকেটের ধরন কিংবা দলের সমন্বয়ের বিষয়টি নির্বাচকদের বিবেচনায় থাকতে পারে। সৌম্য সাধারণত গতিময় ও বাউন্সি উইকেটে স্বচ্ছন্দে ব্যাটিং করেন। তবে আবুধাবির উইকেটকে স্পিনারদের জন্য বিশেষ সহায়ক বিবেচনা করেছে বিসিবি।