৫৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে প্রথম সেশনেই আউট বাংলাদেশ
খেলা ডেস্ক
২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিং ধসের চরম মূল্য দিল বাংলাদেশ। দিনের প্রথম সেশনে মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই একে একে সাত ব্যাটারকে হারিয়ে ২৭২ রানে থামল স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। অথচ দিনের শুরুতে তিন উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে বেশ ভালো অবস্থানেই ছিল টাইগাররা। সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরির পরও সেই ভিত কাজে লাগাতে পারেনি দল।
দিনের শুরুতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ছিলেন সাদমান। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা এই ওপেনার দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ঘরে। কিন্তু সেঞ্চুরির আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৩৪ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে ১০৫ রান করে দলীয় ২২১ রানে ফিরে যান তিনি। সাদমানের বিদায়ের পরই ছন্দ হারায় বাংলাদেশ।
এরপর তাওহীদ হৃদয়ের কাছ থেকে বড় ইনিংসের আশা থাকলেও হতাশ হতে হয়। আগের দিন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়া হৃদয় ফিরে এসে মাত্র দুই বল খেলেই বিদায় নেন। ৮৬ বলে ৪২ রান করা এই ব্যাটার ফিফটি থেকে আট রান দূরে থামেন।
চাপ সামলাতে লিটন দাসের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু সেই প্রতিরোধও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৩৯ বলে ১৫ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের শিকার হন মিরাজ। এরপর বাংলাদেশের ইনিংসে শুরু হয় আরও দ্রুত পতন। একদিকে উইকেট পড়ছে, অন্যদিকে লিটন চেষ্টা করছেন ইনিংস টেনে নেওয়ার।
যদিও লেজের সারির ব্যাটারকে বারবার স্ট্রাইক দেওয়ার দায় লিটনকেই নিতে হবে। কিন্তু যোগ্য সঙ্গীর অভাবে তার লড়াই ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে। নাঈম হাসান ১২ বলে পাঁচ রান করে ফেরেন। হাসান মাহমুদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ১১ বলে ছয় রান করে বিদায় নেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত লিটনই ছিলেন বাংলাদেশের শেষ ভরসা। ৮৮ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকলেও সতীর্থদের ব্যর্থতায় দলের সংগ্রহ আর বাড়াতে পারেননি। একপ্রান্তে তার লড়াই চললেও অন্যপ্রান্তে উইকেটের পতন থামেনি। ফলে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস, স্কোরবোর্ডে জমা পড়ে ২৭২ রান।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান। একাই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ভেঙে দেন স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ। শামার জোসেফ ও জশুয়া বিশপ নেন দুটি করে উইকেট। বাকি উইকেটটি পান জেডন সিলস।
এমআই