চতুর্থ ইনিংসে ৪১৩ করেও সেবার হেরেছিল বাংলাদেশ
খেলা ডেস্ক
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২২:০৪
সিলেট টেস্টের শেষ দিনে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক সমীকরণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড এখন ৩১৫ রান। হাতে রয়েছে আরও ৭ উইকেট। ক্যারিবীয়রা শেষ দিনে ব্যাটিং চালিয়ে গেলে ব্যবধান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। লক্ষ্য সাড়ে তিনশর আশপাশে থাকলে জয়ের চিন্তা করতে পারে বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যবধান আরও বড় হলে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়েই মনোযোগ দিতে হতে পারে স্বাগতিকদের।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, চতুর্থ ইনিংসে বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের অভিজ্ঞতা খুব বেশি নেই টাইগারদের। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৫ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেটিই এখন পর্যন্ত টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এরপর ২০০ রানের বেশি লক্ষ্য পেরিয়ে আর জয় পাওয়া হয়নি।
তবে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২১৫ রান নয়। এই জায়গায় রয়েছে আরও বড় এক কীর্তি। ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এত বড় সংগ্রহ গড়েও শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়া হয়নি। সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কা করেছিল ২৯৩ রান। জবাবে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ১৭৮ রানে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪০৫ রানের পুঁজি গড়ে লঙ্কানরা। তাতে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় বিশাল চ্যালেঞ্জ।
জবাব দিতে নেমে অবশ্য দারুণ লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। আশরাফুলের সেঞ্চুরি, সাকিবের ৯৬ রান এবং মুশফিকের অর্ধশতকে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৩ রান তুলে নেয় টাইগাররা। শেষ ইনিংসে সেটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। কিন্তু প্রথম ইনিংসের বড় ব্যর্থতার খেসারত দিতে হয় শেষ পর্যন্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৯১ রান, শ্রীলঙ্কা করেছিল ৬৯৯। ফলে ১০৭ রানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।
সিলেটে এবার সেই রেকর্ড ভাঙার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে চতুর্থ ইনিংসে স্পিনারদের দাপট থাকলেও উইকেটে রান করা যে একেবারে অসম্ভব নয়, তার উদাহরণও আছে। চলতি বছর সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৩৫৮ রান করেছিল পাকিস্তান। নাহিদ রানার গতির সামনে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানরা খুব বেশি সুবিধা করতে না পারলেও দলীয় সংগ্রহ ঠিকই বড় হয়েছিল।
অর্থাৎ উইকেট বিলিয়ে না দিলে সিলেটেও রান তোলার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে। তবে এক দিনে ৪১৩ রানের বেশি তুলে নতুন রেকর্ড গড়া কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই। শেষ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কত রানের লক্ষ্য দেয়, তার ওপরও নির্ভর করবে বাংলাদেশের কৌশল। লক্ষ্য তাড়া করে জয়, নাকি উইকেটে টিকে থেকে ম্যাচ বাঁচানো, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে পরিস্থিতি বুঝেই।